অভিনব সব প্রতিবাদের ভাষা তার, জনগণের মাঝে চর্চিত নাম মদন মিত্র

0
53



Ritika Roy, DNI: কালো টাকা বিদেশ থেকে উদ্ধার করে দেশের প্রতিটি নাগরিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে ১৫ লক্ষ টাকা। এটা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিশ্রুতি। কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষমতা দখল করলেও সেই টাকা কেউ পাননি। এবার তারই অভিনব প্রতিবাদে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মদন মিত্র। রবিবাসরীয় দুপুরে চা বিক্রেতা হিসাবে মদন মিত্র দেখা গেল! এক কাপ চায়ের দাম ১৫ লক্ষ টাকা!‌ কালো পাঞ্জাবি, কালো টুপি ও চোখে কালো চশমা পরে অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে ভবানীপুর এলাকায় চা–বিক্রি করলেন কামারহাটির তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মদন মিত্র।

পেট্রোল–ডিজেল–গ্যাস–সহ নিত্য প্রয়োজনীয় মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। তার জেরে নাভিশ্বাস উঠেছে আমজনতার। আর এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারই প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খোঁচা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক।তবে বর্তমান সময়ে বাড়তে থাকা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে, কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে এক অভিনব ভঙ্গিতে প্রতিবাদে নামলেন মদন মিত্র। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্বদের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে ‘মোদি বাবু, পেট্রোল বেকাবু’। তবে সকলকে ছাপিয়ে গেল মদন মিত্রের প্রতিবাদের ভাষা। মদন মিত্র মানেই কিছু না কিছু চমক থাকবেই। আর সেই প্রথাকে বহাল রেখে প্রধানমন্ত্রীর বিরোধীতায় এক অভিনব পন্থার প্রয়োগ করেছিলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। কখনও সাইকেল আবার কখনও গরুর গাড়ি চড়েই প্রতিবাদে নেমেছিলেন মদন মিত্র। মোদী সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছিলেন,‘মোদী সরকারের সময় প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। কফিনের শেষ পেরেক হচ্ছে ১০০ টাকা পেট্রোল। মোদী এবং অমিত শাহের এই গরুর গাড়ি চড়েই পার্লামেন্টে যাওয়ার কথা ছিল। তাহলে বুঝত মানুষের কত কষ্ট। এই লড়াই থামবে না, দিল্লী গিয়ে থামবে’। শুধু আক্রমণই নয়, গরু দুটোর একটিকে মোদী এবং অন্যটিকে শাহ নামও দেন মদন মিত্র।

এদিন মদন মিত্রের স্লোগান ছিল, ‘‌এক কাপ চায়ের দাম ১৫ লক্ষ টাকা। এমন চা আমেরিকার প্রেসিডেন্টও খাওয়াতে পারেননি। যা এখন মোদীজি আমাদের খাওয়াচ্ছেন।’‌ এখন প্রশ্ন, এক কাপ চায়ের দাম ১৫ লক্ষ টাকা কেন বললেন মদন মিত্র?

রবিবার ভবানীপুরের রাস্তায় অনুগামীদের নিয়ে জমায়েত করেছিলেন মদন মিত্র। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদেই এই জমায়েত। সবাই প্রধানমন্ত্রীর মুখোশ পরেছিলেন। আর মদন মিত্র বিক্রি করছিলেন চা। যার প্রতি কাপের দাম ১৫ লক্ষ টাকা। কারণ এমনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৎকালীন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী। এদিন সেই বিষয়গুলি তুলে ধরলেন মদন মিত্র। এই চা–বিক্রি করতে করতেই এদিন কামারহাটির বিধায়ক বলেন, ‘‌ত্রিপুরায় ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল কংগ্রেস। ওখানে পালিত হবে বিজয় দিবস।’‌


তার প্রতিবাদের ভাষা এক অন্যমাত্রা, যা তার অনুগামীদের প্রেরণা দেয়। এই করোনা পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ কর্মহীন, বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বেকারত্ব দূর করতে এগিয়ে এসে এই চায়ের দোকান করে কর্মহীনতা দূর করার উপায় দিচ্ছেন। এতে অনেক মানুষ উপকারিত হবেন।

Advertisement
Advertisement

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে