আদালতকে বেনজির আক্রমণ, বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন সাকেত গোখালের।

0
86

আদালত এবং বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং অবমাননাকর মন্তব্য করার পরের দিনই ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অনুমতি চাইলেন আর টি আই অ্যাক্টিভিস্ট এবং বিশিষ্ট সমাজ কর্মী সাকেত গোখালে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, 25শে সেপ্টেম্বর ত্রিপুরার একটি জনসভায় আমলাদের কাজের গতি আনার প্রসঙ্গে বলেন যে, আমলারা যেন কাজ করতে গিয়ে আদালত অবমাননার ভয় না পান। কারণ, তিনি (বিপ্লব দেব) হচ্ছেন আসল বাঘ। আদালত যাই বলুক না কেন, পুলিশ তো ওনার কথাই শুনবে। আদালত যদি কোনো আমলাকে গ্রেফতার করতেও বলে, তাহলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে আসবে না। উনিই পুলিশকে নির্দেশ দেবেন আদালতে গিয়ে এই কথা জানাতে যে অভিযুক্তকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। ঐ সভায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “আমি আছি তো। জেলে গেলে আগে আমি যাব। জেলে নিয়ে যাওয়া অতো সহজ নয়।”

আদালতের পক্ষে অত্যন্ত সম্মানহানিকর এই মন্তব্যের কথা প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে সারা দেশ জুড়ে। বস্তুত, কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই পর্যায়ে আদালত অবমাননাকর কথা এর আগে কখনোই শোনা যায়নি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ত্রিপুরায় বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিতে চাইছেন বিপ্লব দেব। সারা ত্রিপুরায় 144 ধারা লাগু করে রেখেছেন তিনি যাতে কেউ প্রতিবাদ করতে না পারে। একজন মুখ্যমন্ত্রী যখন নিজেকে বাঘ বলেন, তখন তা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

এই ঘটনার পরে চুপ থাকতে পারেননি বিশিষ্ট সমাজকর্মী এবং আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট সাকেত গোখালে। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করার অনুমতি চান। অ্যাটর্নি জেনারেলকে লেখা চিঠিতে তিনি বিপ্লব দেবের আদালত এবং বিচার ব্যবস্থার সম্পর্কে করা নিন্দনীয় মন্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি এই কথাও বলেছেন যে, বিপ্লব বাবু সজ্ঞানে জনমানসে আদালতের ভাবমূর্তি খারাপ করার জন্য এই মন্তব্য করেছেন।

বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চাওয়া এই চিঠি, এজি সিদ্ধার্থ শংকর দের অফিসে সোমবার সকালেই পাঠান সাকেত গোখালে। পরে সেই চিঠির প্রতিলিপি তিনি নিজের টুইটার হ্যান্ডেলেও শেয়ার করেন।

তিনি সোশিয়াল মিডিয়ায় একথা জানিয়েছেন যে, এজি যদি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি না দেন, তাহলে তিনি ত্রিপুরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।

News by Gourab

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে