আনন্দ নগরীর বুকে দশটি দশভুজা গড়ে দেওয়ার নজিরবিহীন উদ্যোগ চোরবাগান সর্বজনীনের

0
316



প্রিয়াঙ্কা পাল, DNI: করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। কেউ বেকার হয়ে গিয়েছে বা কারুর ব্যবসায় পড়েছে তালা। সব মিলিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে জনসাধারণ। আর তার মধ্যেই আসতে চলেছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। গতবছর করোনা বিধিনিষেধ মেনেই অল্পের মধ্যেই সেরে ফেলা হয়েছিল পুজোর প্রস্তুতি। তবে বছর ঘুরতেও অবস্থার খুব হেরফের হয়নি। এবারের দুর্গাপুজোতেও করোনার কাঁটা। তবে পুজো মানেই সব ভুলে আনন্দে মেতে ওঠা নয়। এই সময়টার গুরুত্ব হল মানুষের পাশে থাকা। দরিদ্রের ঘরে অন্নসংস্থান, সর্বহারাদের মুখে হাসি ফোটানো। এই সব নিয়েই তো বাঙালির দুর্গাপুজো বেচেঁ আছে। আর সেই মানসিকতা নিয়েই করোনা আবহেই দুর্গাপুজোকে সর্বান্তকরণে সফল করার প্রচেষ্টায় এগিয়ে এল চোরবাগান সর্বজনীন (Chorbagan Sarbojonin) দুর্গোৎসব সমিতি।

সেখানকার উদ্যোক্তারা কিন্তু শুধু পুজোর আয়োজনেই নিজেদের আটকে রাখেননি। নিজেদের চিন্তাভাবনা বিস্তৃত করেছেন সাধারণ মানুষের মধ্যেও। এগিয়ে এসেছেন নানা সমাজসেবামূলক ক্রিয়াকলাপে। এমনিতেও পুজো কমিটিগুলো একের পর এক দুর্যোগ পরিস্থিতিতে বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের হাত। যার মধ্যে অন্যতম হল চোরবাগান সর্বজনীন। ইয়াসে বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে মানুষের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে, তেমনই আবার এগিয়ে এসছে সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে টিকাকরণের জন্যেও।

তবে এবার করোনা আবহে কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। আগে এইসময়ে শিল্পীদের কাছে মূর্তি তৈরির যে হিড়িক পড়ত তা এখন আর নেই। শিল্পীদের রোজগার প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই দুর্বিসহ পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকতে চেয়ে তারা আরও একধাপ এগিয়ে এল। তাদের সঙ্গে যাতে অন্যান্য ক্লাবও পুজোর আনন্দে মেতে উঠতে পারে, সেই উদ্যোগই গ্রহণ করা হল। এবার ১০টি ক্লাবের প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব নিল চোরবাগান সর্বজনীন। যার তত্ত্বাবধানে থাকবেন খোদ শিল্পী বিমল সামন্ত। যিনি এবারও চোরবাগানের মণ্ডপসজ্জার দায়িত্ব নিয়েছেন। আর প্রতিমা গড়ার দায়িত্বে রয়েছেন নবকুমার পাল। আলোকসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী।

পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিল্পীর মস্তিষ্কপ্রসূত বুদ্ধির মাধ্যমে তারা এই বছরের দুর্গাপুজোর থিম বেছে নিয়েছেন। মানুষকে সাহায্য করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তারা সম্মিলিতভাবে জানিয়েছেন, “মহামারীর জন্য এবার অনেক মৃৎশিল্পী এবং পুজোর সঙ্গে জড়িত লোকেরা কাজ পাচ্ছেন না। প্রত্যন্ত গ্রামের সেই সব মানুষদের কথা ভেবেই আমাদের এই উদ্যোগ। তাঁরাই শিল্পী বিমল সামন্তের তত্ত্বাবধানে ১০টি প্রতিমা গড়বেন। তাঁদের টিকাকরণের ব্যবস্থাও করবে চোরবাগানই। যে সব ক্লাব চাইবে, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াই, তাদের জন্য প্রতিমা তৈরি হবে ক্লাব প্রাঙ্গনেই। আবেদনপত্রের মধ্যে থেকে ১০টি ক্লাবকে বেছে নেব, যাদের সত্যিই আর্থিক অনটন রয়েছে।”

প্রতিটি ক্লাবকে বায়না ও প্রতিমা গড়ার জন্য ১০১ টাকা করে দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া বাঙালির সেরা উৎসবকে নিরাপদে আয়োজনের জন্য ক্লাবের প্রতিটি সদস্য, পুরোহিত, শিল্পী, কারিগর, ইলেক্ট্রিশিয়ান, মাইক ম্যান, নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুরু করে যে ঢাকি ভাইয়েরা পুজোর সময় আসবেন, তাঁদের সুরক্ষার কথা ভেবে সবার টিকাকরণের দায়িত্ব নিয়েছে ক্লাবই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে