উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব কেন?

0
60

Priyanka Pal, DNI: শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বারবার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সাল থেকে চলা আপার প্রাইমারির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠে। বেশ কয়েকজন প্রার্থীর দাবি ছিল, যোগ্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশিক্ষণহীন প্রার্থীরা সুযোগ পেয়ে গিয়েছেন। নিয়োগ তালিকায় অসংগতির অভিযোগে গতবছর হাইকোর্টে মামলা করেন চাকরিপ্রার্থীর একাংশ। মামলকারীদের আইনজীবী দিব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, নিয়োগ তালিকা অস্বচ্ছ।

সেই হিসেবে গত ১১ ডিসেম্বর ওই মামলার ভিত্তিতে ২০১৬ সাল থেকে চলা আপার প্রাইমারী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি পুনরায় নতুন করে ভেরিফিকেশন-সহ যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ মতো গত ৪ জানু়য়ারি থেকে নতুন করে শুরু হয় ভেরিফিকেশন। ১০ মে-র আগে ইন্টারভিউ লিস্ট প্রকাশ ও ৩১ জুলাই-এর মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয় আদালত।

কিন্তু এখনও তার সমাধান হয়নি। চলতি বছরের গত মাসে নতুন করে ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশিত হলে সেখানেও গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। তালিকায় সঠিক নম্বর নেই বলে অভিযোগ জানান অনেকে। স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়, কিছুদিনের মধ্যে এই ব্যাপারটি খতিয়ে দেখতে। আর তাতেও সমস্যার সমাধান না হলে পরীক্ষার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন। ফলে স্থগিত হয়ে যায় নিয়োগ প্রক্রিয়া।

চাকরিপ্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হলে সাতদিনের মধ্যে প্রার্থীদের নম্বর-সহ ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। মামলাকারীদের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে কোন প্রার্থী কত নম্বর পেয়েছেন, তার সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। যাঁরা ইন্টারভিউয়ে ডাক পাননি, তাঁদের নম্বরও প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট, যাতে তাঁদের ডাক না পাওয়ার কারণও জানা যায়। আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে কমিশনকে হাইকোর্টে আসার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

সিঙ্গল বেঞ্চ থেকে মামলা ডিভিশন বেঞ্চে স্থানান্তরিত হয়। গত মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নতুন নির্দেশিকা জারি করে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে না। তবে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছেন দুই বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও সৌগত ভট্টাচার্য।

ফলে আপাতত স্থগিত থাকছে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। যতদিন না নতুন রায় আসছে প্রশ্নের মুখে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ। তবে স্কুল সার্ভিস কমিশন কি করছে? কেন এত গাফিলতির মুখে পড়তে হচ্ছে প্রার্থীদের। ২০১৬ থেকে চলা নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন করা গেল না। কবে পুরোপুরি সুষ্ঠভাবে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্ভব হবে সেটাই এখন প্রশ্ন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে