উদ্ভিদের পরে এবার “সাইটালিডিয়াম ডিমিডিয়াটাম” ছত্রাকে আক্রান্ত চা বাগানের শ্রমিক

0
165
সাইটালিডিয়াম ডিমিডিয়াটাম

লিপিকা সরদার, DNI : অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাদ্যাভাব, অশিক্ষা ও অপর্যাপ্ত পরিমাণের মজুরির কারণে চা-বাগানের শ্রমিকরা অধিকাংশ সময় সমস্যায় জর্জরিত। কোভিডের মতো মারণরোগের পাশাপাশি ব্ল্যাক,হোয়াইট, ইয়েলো প্রভৃতি রঙের ফাঙ্গাসের আক্রমণে সাধারণ মানুষের জীবন করে তুলেছে দুর্বিসহ। এরূপ পরিস্থিতিতে যেখানে চা বাগানের শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয় মজুরি, একটু জ্বালানি কাঠ ,শিক্ষা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবারের জন্য সেক্ষেত্রে এই রোগ তাদের জীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।

কিছুদিন আগে দেখা যায় বর্ধমান জেলার কিছু জায়গায় শিরিষ গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মানুষের মনে আলোড়ন তুলেছে যখন পূর্ব বর্ধমানের জি টি রোড এর ধারে অসংখ্য শিরিষ গাছ শুকিয়ে যায়। আসলে এই সিরিজ গাছগুলি ‘সাইটালিডিইয়াম ডিমিডিয়াটাম’ নামক ছত্রাকের কারণে ‘ডাইব্যাক’ রোগে আক্রান্ত। এই ছত্রাকটি প্রথম পাওয়া যায় মধ্যপ্রাচ্যের ওমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টে। পরে ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে পাঞ্জাব এবং কেরালাতে এই ছত্রাকের প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে অসম ও নীলগিরির চা-বাগানেও এই ছত্রাক হানা দিয়েছে। যার থেকে রেহাই পাচ্ছে না চা বাগানের শ্রমিকরা। এই ছত্রাকের আক্রান্ত চা শ্রমিকদের নখ বিশেষ করে পায়ের নখের চারপাশের অংশ ফুলে গিয়ে ফ্যাকাশে রং ধারণ করছে এবং পরবর্তী সময়ে তা পচে গিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এর আগেও চা বাগানে ব্যবহার করা হত ‘কপার অক্সিক্লোরাইড’ নামক কীটনাশক। এই কীটনাশক পরিবেশের পাশাপাশি চা বাগানের জনস্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলেছিল। তবে আপাতভাবে সাইটালিডিয়াম ডিমিডিয়াটাম ছত্রাকের আক্রান্ত থেকে থেকে রক্ষা পেতে গেলে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে তা হল –

• ছত্রাকে আক্রান্ত রোগীর শুরুতেই প্রতিষেধকের ব্যবস্থা করতে হবে।
• কাটিং গাছের পরিবর্তে বীজ থেকে উৎপন্ন চারা গাছ লাগাতে হবে কারণ বীজ থেকে উৎপন্ন গাছের প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি।
• শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখতে হবে ।
• হাত পা সব সময় আর্দ্র না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে