একের পর এক সেনা জওয়ানের মৃত্যু; নিরুত্তর, উদাসীন কেন্দ্র।

0
50

অবশেষে গতকাল দিল্লী পৌঁছল ভারতবর্ষের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং তার স্ত্রীর নশ্বর কফিনবন্দী দেহ। বিগত দিনে আমরা অনেক সেনা জওয়ানের এমনই কফিন দেখেছি বিভিন্ন জায়গায় এবং তাৎপর্যপূর্ণভাবে ২০১৪ সালের পর থেকে সেই সংখ্যা ক্রমাগত হারে বেড়েছে, ব্যাথিত হয়েছে প্রত্যেক ভারতবাসীর হৃদয়।

Advertisement

এ বিষয়ে একটি ঘটনা মনে পড়ে যায়, ঘটনাটি ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসের।সেই বার ক্যাপ্টেন নরেন্দ্র কুমার জিপ চালিয়ে আসছিলেন বালতাল থেকে কাশ্মীরের দিকে। পরদিন ভোরে ওনাকে কারগিল বর্ডারে ডিউটিতে রিপোর্ট করতে হত। শুনশান পাহাড়ি রাস্তা, হঠাৎ জিপের সামনে ভয়াবহ গ্রেনেড বিস্ফোরণ। সামনের উইন্ড স্ক্রিন ভেঙে চুরমার।জিপের তলায় বসে পড়েন জওয়ান ক্যাপ্টেন নরেন্দ্র কুমার।একহাতে এস.এল.আর রাইফেল আর অন্য হাতে রেডিও ট্রান্সমিটার ধরে নির্দেশ করেন কন্ট্রোল রুমের দিকে।
“হ্যালো! চার্লি নরেন্দ্র কুমার হিয়ার! পাকিস্তানি ওনে হাম পর হামলা বোল দিয়া! কেয়া হাম গোলি চলা সাকতে হ্যায়!!”

উত্তর এলো –
” আভি দো দিন ইন্তেজার কারো। কিউকি হামারে দেশকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি, পাকিস্তানকে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকা দাওয়াত খানে কে লিয়ে পাকিস্তান গ্যেয়ে হুয়ে হ্যায়। উনকো ওয়াপশ আনে দো। ফির দো দিন বাদ হাম গোলি চালায়েঙ্গে।”

ক্যাপ্টেন নরেন্দ্র কুমার বললেন – ” ইয়ার মেরে পাস তো সিরফ দো হি রাস্তা বাচা হ্যায়! ইয়া তো খুদ মরো, ইয়া দুশমন কো মারো!!”

ওপার থেকে কোনো উত্তর আসেনি।।

পরেরদিন উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর জেলার গভীরান গ্রাম –
বাড়ির সামনে হেলিকপ্টার থেকে নামানো হচ্ছে অশোকস্তম্ভ সম্বলিত, তেরঙা পতাকায় মোড়া, বীর শহীদ ক্যাপ্টেন নরেন্দ্র কুমারের নিথর দেহ সম্বলিত কফিন। বীর জওয়ানের ১৩ বছরের ছোট্ট মেয়েটা বাবার কফিন বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে আর চিৎকার করে বলছে “কাভি বেকাসিনে মারা, তো কাভি বেবসিনে মারা! গিলা মত সে নেহি, মেরে পাপা কো তো মেরে দেশ কা প্রধানমন্ত্রী নে মারা! আপনা হি প্রধানমন্ত্রী নে মারা!”

কখনো ইতিহাসের গর্ভে তলিয়ে যাওয়া ক্যাপ্টেন নরেন্দ্র কুমার অথবা কখনো পুলওয়ামা হামলায় নিহত শহীদ জওয়ানরা, কিংবা কখনো জেনারেল বিপিন রাওয়াত,দেশমাতৃকার আব্রু রক্ষাকারী নায়কদের এভাবে চলে যাওয়ার ঘটনা আমাদের ব্যথিত করে প্রতি মুহূর্তে। সর্বশক্তিমানের কাছে এটাই প্রার্থনা, এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। বীর সর্বদা বীরগতিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন ঠিকই, কিন্তু কখনো যেন এভাবে কোনো স্ত্রী, কোনো মা, কোনো বাবা, কোনো পুত্র কিংবা কন্যার মাথার ছাদ, স্নেহের কোল খালি না হয়ে যায়।।

কলমে- অর্পণ ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক, হাওড়া জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।

Advertisement

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে