করোনায় ধুঁকছে অর্থনীতির চাকা ; বেকারত্বের মার জীবন ও জীবিকায়

0
150
corona makes indian economy downfall



প্রিয়াঙ্কা পাল, DNI: ২০২০ – র মাঝামাঝিতে দেশে আছড়ে পড়েছিল করোনার প্রথম ঢেউ। তারপরই লকডাউন জারি করা হয় গোটা দেশ জুড়ে। তখন ভারতের রাজপথ দেখেছিল অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুমিছিল। কত মানুষ কাজ হারিয়েছেন সেই পরিস্থিতিতে। রাজ্য তথা দেশ জুড়ে অর্থনীতির চাকা প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারপরই একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও আবার ২০২১-এর শুরুতে ভারতে ঢুকে পরে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। ফলে এই বছরের অবস্থাও প্রায় আগের মতোই। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবং লকডাউনের কারণে লাখ লাখ মানুষ কাজ হারাচ্ছেন। অদূর ভবিষ্যতে তারা ফের কাজে যোগ দিতে পারবেন, এমন আশাও কম। ২০২০ সালে সংখ্যাটি ২০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছিলেন। যার মধ্যে আট শতাংশ মানুষের একক রোজগারে সংসারে চলে।

গত বছরের করোনার প্রথম ঢেউ সামলে উঠলেও বেকারত্বের অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বহু ছোট সংস্থা প্রথম লকডাউনের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি। ফলে লকডাউনের পরে অফিস খুললেও তা বেশিদিন চালানো যায়নি। গত এপ্রিল মাস থেকে বিভিন্ন রাজ্যে নতুন করে লকডাউন এবং কারফিউ জারি করা হয়। ফলে রাজ্য জুড়েও বৃদ্ধি পেয়েছে বেকারত্বের হার। পশ্চিমবঙ্গে কর্মহীনতার ৬ মাস অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রাজ্যে বেকারত্বের হার বেড়েছে করোনার মতো লাফিয়ে লাফিয়েই। জানুয়ারিতে যে সংখ্যাটা ছিল ৫.২ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে সেটা হয় ৬.২ শতাংশ, মার্চে সেটা গিয়ে দাঁড়ায় ৭.৫ শতাংশে, এপ্রিলে সেটা হয় ৭.৬ শতাংশ, মে-তে বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৯.৩ শতাংশ ও জুনে তা হয় ২২.১ শতাংশ। ফলে ভারতে বেকারতের দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের স্থান চতুর্থ। সমগ্র দেশে আজ বেকারত্বের হার গিয়ে দাঁড়িয়েছে মোট ৭.৬ শতাংশে। গ্রামীণ বেকারত্বের হারও দ্বিগুণ বেড়ে গিয়ে হয়েছে ৭.২ শতাংশ ও শহরে বেকারত্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮.৪ শতাংশ। ফলে সব মিলিয়ে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধিতে জেরবার সাধারণ মানুষের জীবন। আগামী কয়েকবছর আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাজ হারানোর প্রবণতা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে