করোনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার! মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়

0
125


শুধুমাত্র রূপান্তরকামী হওয়ার জন্যে তার করোনা পরীক্ষা হচ্ছে না বলে রাজ্য নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরে লিখিত অভিযোগ জানালেন রাজ্য ‘ট্রান্সজেন্ডার ট্রান্সপার্সন বোর্ড’-এর সহ-অধ্যক্ষ তথা ঢোলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়।



“খারাপ আছি” টুকু বলতেও দম লাগে! গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই একটি ভিডিও শেয়ার করে মানবী জানান, যে তার স্বামী বেশ কিছুদিন ধরেই জ্বরে আক্রান্ত। তাই সরকারি হাসপাতাল এম আর বাঙ্গুরে করোনা টেস্ট করাতে গেলে তার সাথে দুর্ব্যবহার করা হয় ও সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হয় তার স্বামীর করোনা পরীক্ষা করা হলেও সেই মুহূর্তে তার করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। তার অভিযোগ, “বাঙুর হাসপাতালের ইমার্জেন্সির দোরগোড়ায় পৌঁছতেই একজন মহিলা নিরাপত্তারক্ষী উগ্রমূর্তিতে তেড়ে আসেন তার দিকে। সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় আমি ঘাবড়ে যাই। আমি তখন হাসপাতালের সুপারের খোঁজ করতে থাকি। ট্রান্সজেন্ডার কমিশনের সহ-অধ্যক্ষর পরিচয়পত্র দেখানোর পর পুলিশের সাহায্যে সুপারের ঘরে যাই। সেখানেও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সুপার আসেন এবং জানান, যে কেউ যে কোনও মুহূর্তে আমার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। গত দেড় বছর ধরে করোনা নিয়ে বাঙুরে কাজ হচ্ছে। কোনও দিন কোনও অভিযোগ আসেনি। আর এখানে রূপান্তরকামীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ডও আছে।”

মানবী জানান, সোমবার তার স্বামীর রিপোর্ট পজিটিভ এলেও তার করোনা পরীক্ষা এখনও হয়নি। আর তিনি তিনদিন ধরেই বাড়িতে রয়েছেন শুধুমাত্র জ্বরের ওষুধ খেয়ে। সরকারি হাসপাতালের এরকম আচরণ সত্যিই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। তার প্রশ্ন, “আমি ট্রান্স নারী বলেই আমার করোনা পরীক্ষা হল না। আমার গোটা পৃথিবীর কাছে প্রশ্ন, সত্যিই কী আমরা চিকিৎসার যোগ্য নই? আমি কী কোনও মানুষ নই? আমি চাই এর একটা তদন্ত হোক।” তবে সূত্রের খবর, গতকাল রাত্রেই তাকে কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে