কুমোর পাড়ায় পুজো কর্তাদের আনাগোনা ; ঢাকে কাঠি পড়তে আর মাত্র ১০০ দিনের অপেক্ষা

0
165


‘আসছে বছর আবার হবে’- এই প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে আগামী বছরের মাকে বাপের বাড়িতে বিদায় জানিয়ে, আবারও একটা বছর পার। কিন্তু পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি, কম বেশি মানুষের মধ্যে পুজোর আগমনের আবেগ ঘটলেও তা বিকশিত রূপ নিতে পারছে না, কারণ এই করোনা অসুর এখনও মানুষের জীবনে তার প্রভাব ফেলেই রেখেছে।

গতবছরের মার্চ মাস থেকেই দেশজুড়ে করোনার প্রথম ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল। দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা যেনো ছিল লাগামছাড়া। অর্থাৎ ইতিমধ্যেই করোনা অতিমারির মধ্যেই এক অন্যরকম দুর্গাপুজো দেখেছে কলকাতাবাসী, যেখানে পুজোর বার্তাই ছিলো মানবিকতার সঙ্গে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার। আর বছর ঘুরতেই আজও সেই একই পরিস্থিতি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় যেখানে সংক্রমণ আগের থেকেও মাত্রাতিরিক্ত, আবার যখন শোনা যাচ্ছে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যেই আছড়ে পড়তে চলেছে করোনার তৃতীয় ঢেউ সেখানে এই বছরের পুজোর গন্ধে মেতে উঠতে চাইছে বাঙালি তথা বাংলার মানুষের মন প্রাণ, তবুও তারই মধ্যে এই পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়েও বাড়ছে জল্পনা চিন্তিত পুজো উদ্যোক্তা থেকে শিল্পী এবং পুজোর সঙ্গে যুক্ত সকল মানুষজন।

দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে যেনো একটা আবেগ। ৬ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে পুজোর প্রস্তুতি। আর তারপরেই ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠী। কিন্তু এই করোনা আবহে আগের বার যেরকমভাবে পুজো হয়েছিল এবার আদেও কোনো পুজো হবে কিনা, হলেও কী কী বিধিনিষেধ বহাল থাকবে তা নিয়ে এখনও কোনো নির্দেশিকা জারি করেনি রাজ্য সরকার। পুজো কমিটিগুলির মধ্যেও বেড়েছে দুশ্চিন্তা।

কলকাতার দুর্গাপুজো এখন আর শুধু পুজো কনসেপ্টে আটকে নেই। তা এখন সেই গণ্ডি অতিক্রম করে শিল্প সৃষ্টির অন্যতম মাধ্যম, প্রায় বলা চলে পুজো এখন একটি ইন্ডাস্ট্রি যেখানে রয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাজের সুযোগ। বাংলার পুজোকে এখন বিশ্বমানের তকমাও দিতে একক ভাবে সরকারও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তারাও নানান ভাবে পুজো ক্লাব কে আর্থিক সাহায্য থেকে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে চলেছে। পুজোর উদ্যোক্তা থেকে শিল্পীদের কথায়, পুজোর সঙ্গে যেমন মানুষের আবেগ মিশে রয়েছে, ঠিক তেমনই পুজো এখন বহু মানুষের রুটি-রুজি আর স্বপ্ন। কার্যত এই পরিস্থিতিতে সকলের মাথায় হাত পড়েছে বটে, তবুও এই অন্ধকার মধ্যেই আশার আলোর সন্ধানে মরিয়া সবাই।

২০২০-র মতো এবারও মায়ের কাছে একটাই কথা, এই মহামারির হাত থেকে রক্ষা করো। যাতে করোনার প্রকোপে আর কোনো মানুষ যেনো তাদের প্রিয়জনকে না হারায়। সব আঁধার কাটিয়ে যেনো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে জিতে যায় মানবসভ্যতা।

By Priyanka

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে