কেরালার জনপ্রিয় মার্শাল আর্ট কলারিপায়াত্তু, এর তাৎপর্য কী জেনে নিন

0
202



আমরা সবাই কমবেশি মার্শাল আর্টের কথা জানি , যাকে আমরা এক প্রকার যুদ্ধ শিল্পও বলতে পারি। মার্শাল কথাটির উৎপত্তি রোমান যুদ্ধদেবতা মাসৌর থেকে। সভ্যতার সূচনা পর্ব থেকে মানবজাতি নিজেকে আত্মরক্ষার তাগিদেই মার্শাল আর্ট ব্যবহার করে এসেছে।

সাধারণত এটি একটি শৈল্পিক কায়দা যেখানে অস্ত্রের পাশাপাশি অস্ত্রবিহীন ভাবেও আমরা এই কৌশল ব্যবহার করতে পারি। মার্শাল আর্ট সাধারণত প্রাচীনকাল থেকেই আধ্যাত্মিক সাধনা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে যুক্ত এবং পাশাপাশি যুদ্ধবিগ্রহময় মানুষের জীবনের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এই মার্শাল আর্ট বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে, যেমন- প্যানক্রেশান, মল্লযুদ্ধ, তাইকিয়ান, সুয়াইজাও, কলারিপায়াত্তু প্রভৃতি।

কলারিপায়াত্তু হল বিশেষ ধরনের একটি মার্শাল আর্ট যা বিশেষভাবে ভারতের কেরালাতে প্রচলিত। এই আর্টটি উদ্ভব হয়েছিল বৈদিক যুগের প্রায় ৩ হাজার বছর আগে এবং এই আর্টটির সূচনা হয় পরশুরামের হাত ধরে যাকে হিন্দু ধর্মে ঈশ্বর বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার বলে মনে করা হয়।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ভগবান পরশুরাম ২১ বার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তৎকালীন সময়ের অত্যাচারী ক্ষত্রিয় রাজাদের বিনাশ করার জন্য এবং সেই যুদ্ধে তিনি এই কলারিপায়াত্তু শৈল্পিক কৌশল ব্যবহার করেন। এটি কলারি নামেও পরিচিত। এই মার্শাল আর্ট ফর্মটিতে মালাবার জাতির আচার দর্শন সংস্কৃতি বিশেষভাবে জড়িত রয়েছে।

প্রাচীনকাল থেকেই এটি একধরনের মেডিকেল ট্রিটমেন্ট হিসেবেও কাজ করছে। বৈদিক যুগে আয়ুর্বেদ এবং যোগ স্বাস্থ্যের মধ্যেও এই মার্শাল আর্ট ফর্ম কলারিপায়াত্তুর কথা আমরা জানতে পারি। এই কৌশলের শিক্ষাদান সাধারণত গুরু শিষ্য প্রথার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১৮০৪ সালে পাজহাসি রাজার আমলে ব্রিটিশ সরকারের সাথে সংঘর্ষ হয়। সেখানে ভারতীয় সৈন্য যুদ্ধের কৌশল হিসেবে কলারিপায়াত্তু ব্যাবহার করে। এরপর ব্রিটিশ সরকার এই মার্শাল আর্ট ফর্ম টিকে ব্যান করে দেয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭০ সাল থেকে এই কলারিপায়াত্তু সমানভাবে বর্তমান যুগেও জনসাধারণের কাছেও বেশ জনপ্রিয়।

By: Lipika Sardar

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে