কোলকাতার মুকুটে নয়া পালক, কেন্দ্রের রিপোর্টে দেশের সবথেকে নিরাপদ শহর কোলকাতা।

0
127

আবারও কোলকাতার জয়জয়কার, ভারতের সবচেয়ে নিরাপদ শহর কোলকাতা। দেশের প্রধান ১৯ টি শহরের মধ্যে কোলকাতায় অপরাধের হার সব থেকে কম। ১৪ তারিখ দিল্লী থেকে প্রকাশিত ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি)র রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায় ২০১৮ র থেকেও ২০২০ তে কোলকাতায় অপরাধের সংখ্যা আরও কমেছে। মহিলাদের জন্যও সবচেয়ে সুরক্ষিত শহর কোলকাতা।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সংস্থা এনসিআরবি গত এক বছরের পরিসংখ্যানের অপর ভিত্তি করে ‘ক্রাইম ইন ইন্ডিয়া ২০২০’ শীর্ষক রিপোর্টে দেখা যায় ২০২০ সালে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় চেন্নাইএ মোট অপরাধের হার ১৯৩৭.১, যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এবং কলকাতায় মোট অপরাধের হার ১২৯.৫ যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। এছাড়া দিল্লীতে অপরাধের হার ১৬০৮.৬, সুরত ৯৩০০, আমেদাবাদ ৯৩০০ এবং মুম্বাইএ ৩১৮.৬।

গত দুবছরের তুলনায় কোলকাতায় নথিভুক্ত অপরাধের সংখ্যাও কমেছে অনেকটা। ২০১৮ সালে কোলকাতায় অপরাধের সংখ্যা ছিল ১৯,৬৮২। ২০১৯ সালে অপরাধের সংখ্যা ছিল ১৭,৩২৪। এই ২ বছরের তুলনায় ২০২০ সালে অপরাধের সংখ্যা আরও কমে দাঁড়ায় ১৫,৫১৭।

আইপিসি বা ভারতীয় দন্ডবিধির নিরিখেও কোলকাতায় অপরাধের হার ১০৯.৯ যা  বাকি বড় শহরগুলির থেকে কম। আইপিসি অপরাধের হার কোলকাতা ২০২০ তে ১৩৯.৫ থেকে কমিয়েছে ১০৯.৯ তে। ২০১৬ তে আইপিসি অপরাধের হার ছিল ১৫৯.৬ এবং ২০১৭তে হার ছিল ১৪১.২। ক্রমাগতই আইপিসি অপরাধের হার কোলকাতায় কমছে যেটি অন্য অনেক বড় শহরই করে দেখাতে পারে নি।

নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের দিক থেকেও বাকী মেট্রো শহরগুলির থেকে কোলকাতা অনেক বেশি নিরাপদ। গত এক বছরে কোলকাতায় মহিলাদের বিরুদ্ধে মোট অপরাধ হয়েছে ২০০১। বেঙ্গালুরুতে সেই সংখ্যা ২৭৩০। মুম্বাইতে সংখ্যাটি ৪৫৮৩ এবং সবচেয়ে বেশি দিল্লীতে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা ৯৭৮২।   রিপোর্ট অনুযায়ী রাজধানী দিল্লীতে ধর্ষনের শিকার হয়েছেন ৯৬৭ জন মহিলা। মুম্বাইতে সেই সংখ্যাটা ৩২২, আর কোলকাতায় ধর্ষনের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে কম মোট ১১ টি।

এছাড়া শ্লীলতাহানির মতো অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে কোলকাতায় মোট ৩০৪ টি। সেখানে দিল্লীতে ১৮০৫ এবং মুম্বাইতে সংখ্যাটি ১৫০৯। কোলকাতায় পনের বলি হয়েছেন মোট ৯ জন মহিলা। লখনউ তে পনের বলি ৪৮ সেখানে রাজধানী দিল্লীতে পনের বলি মোট ১১১ জন নারী। মহিলা সোলো ট্রাভেলারদের জন্য কোলকাতায় এসে ঘুরে যাওয়াটা যথেষ্টই নিরাপদ সেটি এই রিপোর্ট দেখলেই বোঝা যায়। রিপোর্ট প্রকাশের পর খুশি লালবাজারের অধিকর্তারাও। কোলকাতাবাসীদের সচেতনতাও যে অপরাধের সংখ্যা কমিয়েছে এবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

News by Tania DNI        

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে