খালি পায়ে ফুটবল খেলার জয়ের মধ্যে দিয়ে ব্রিটিশদের হুঙ্কার ; ইতিহাস বহন করা ২৯শে জুলাই

0
261
খালি পায়ে ফুটবল খেলার জয়ের মধ্যে দিয়ে ব্রিটিশদের হুঙ্কার ; ইতিহাস বহন করা ২৯শে জুলাই

মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব হল মূলত কলকাতা ভিত্তিক একটি ভারতীয় ক্লাব। এই ক্লাবটি বর্তমান ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফুটবল ক্লাব। ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ফুটবল ক্লাব হিসেবে বিবেচিত হয় মোহনবাগান ক্লাব। মোট পাঁচবার এই দল ফুটবলে ভারতের সর্বোচ্চ লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যা একটি যুগ্ম রেকর্ড। ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দল এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল ক্লাবগুলির একটি।

মোহনবাগান ভারতের এমনকি কলকাতারও সব থেকে পুরনো ক্লাব নয়। কিন্তু সাহসিকতা ও পরিচ্ছন্ন খেলার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই ক্লাব। ভারতের জাতীয় ক্লাব হিসেবে গণ্য করা হয় মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবকে। ১৮৮০-এর দশকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এই সময় ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের বিদ্রোহ ভারতীয়দের কল্পনাশক্তিকে জাগরিত করে তুলেছিল। এই আন্দোলনকে সাহায্য করার জন্য উত্তর কলকাতার মোহনবাগান অঞ্চলের মিত্র ও সেন পরিবারের সাহায্যে ভূপেন্দ্রনাথ বসু ১৮৮৯ সালের ১৫ আগস্ট “মোহনবাগান স্পোর্টিং ক্লাব” প্রতিষ্ঠা করেন।

মোহনবাগান নামটা শুনলেই মনে পড়ে যায় ১৯১১ সালের কথা। ২৯ জুলাই, ১৯১১ সাল ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। ১৯১১ সালে মোহনবাগান ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে পরাজিত করে প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে আইএফএ শিল্ড জয় করে। দলের অধিনায়ক ছিলেন শিবদাস ভাদুড়ী। উল্লেখ্য, এই খেলায় মোহনবাগানের ফুটবলাররা খালি পায়ে খেলেছিল। তৎকালে সিঙ্গাপুর ফ্রি প্রেস লিখেছিল, “ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এরকম ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আই এফ এ শিল্ডের ফাইনাল দেখতে আজ বিকেলে মাঠে অভূতপূর্ব দর্শক সমাগম হয়েছিল। ধারনা করা হচ্ছে দর্শকের সংখ্যা ছিলো লক্ষাধিক। উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক সেদিন খেলার কিছুই দেখতে পায়নি। খেলাটির বিষয়ে তাঁদের কেবল কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছিলো। খেলার ফলাফল উড়ন্ত ঘুড়ির মাধ্যমে তাঁদের জানানো হয়েছিল।” ১৯১১ সালের শিল্ড জয়ী মোহনবাগান দলে মাত্র এগারোজনই খেলোয়াড় ছিলেন। এঁরা প্রায় সবাই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। মোহনবাগানের এই জয়টিকে ভারতের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা আখ্যা দেওয়া হয়।

ক্যালেন্ডারের পাতায় সেদিন ২৯ জুলাই ১৯১১ ছিল শনিবার। ১৯১১ সালের ২৯ জুলাইয়ের লড়াই আজও ফুটবল প্রেমীদের কিংবা বাঙ্গালির মনে উঁকি দিয়ে যায়। এরপর মোহন বাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান ও অন্যান্য দেশীয় ক্লাবগুলি বহু ব্রিটিশ দলকে হারিয়েছে। অনেক ট্রফিও জিতেছে। কিন্তু সেদিনের ঐতিহাসিক জয়টা অমর হয়ে থাকবে। তাই প্রতিবছর আজকের দিনটিকে মোহনবাগান দিবস বলেই উদযাপন করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে