গোসাবার ‘অক্সিজেন ম্যান’ ; উদ্দেশ্য একটাই মানুষের প্রাণ বাঁচানো

0
61

সুস্মিতা নন্দী,DNI: উদ্দেশ্য একটাই অক্সিজেনের অভাবে যেন মৃত্যু না হয় সুন্দরবন অঞ্চলের কোন মানুষের। একটা ফোন পেলেই চলে আসবে অক্সিজেন ম্যান, নিজের সাইকেলে পিছনে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর চাপিয়ে এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে পৌঁছে যাচ্ছেন গোসাবার বালি দ্বীপের ৫ নম্বর গ্রামের বাসিন্দা সৌমিত্র মন্ডল ।

মাত্র উনত্রিশ বছরের সৌমিত্র মন্ডল সমাজসেবা মূলক কাজের দিকে পা বাড়িয়েছেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন কিন্তু তিন বছর আগেই সেই কাজ তিনি হারান তারপরেই সমাজসেবায় নামেন সৌমিত্র।সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার দুঃস্থ ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার জন্য বইপত্র জোগাড় করা থেকে শুরু করে তাদের স্কুল, কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করেন তিনি। পাশাপাশি গোসাবার ৯টি দ্বীপের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ডায়াবেটিস আক্রান্ত দুঃস্থদের সুগার, প্রেসার পরীক্ষা করে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে রোগীদের হাতে বিনামূল্যে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া থেকে নানা ধরনের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সৌমিত্র।

সম্প্রতি দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় একটি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর জোগাড় করেছেন সৌমিত্র। তারপর চিকিৎসকের কাছে সেটির ব্যবহার শিখে সাইকেলে ওই কনসেনট্রেটর চাপিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দ্বীপ থেকে দ্বীপান্তরে।তাঁর কথায়, “আমাদের চারিদিকে গাছগাছালি আর ম্যানগ্রোভের অরণ্য। তবুও অক্সিজেনের অভাবে এই দ্বীপের মানুষ মারা যাবে, এটা মেনে নিতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই একটা অক্সিজেন কনসেনট্রেটর মেশিন জোগাড় করে দ্বীপাঞ্চলের মানুষদের পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

তার এই কাজে যেনো আরো উজ্জ্বলতা এনে দিয়েছে BDO সৌরভ মিত্র। তিনি বলেন, “এই সময় প্রত্যেককে প্রত্যেকের পাশে দাঁড়িয়ে মহামারীর মোকাবিলা করা উচিত। সৌমিত্র যে কাজটা করছে সেটা খুবই ভালো উদ্যোগ। ওকে দেখে এই ধরনের কাজে আরও কিছু মানুষ এগিয়ে এলে এই দ্বীপাঞ্চলে অক্সিজেনের অভাব অনেকটাই মিটে যাবে।” ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিক ইন্দ্রনীল বর্গী বলেন, ‘গোসাবা ব্লকের ৯টি দ্বীপের সবকটিতেই আমরা সরকারি উদ্যোগে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি ঠিকই। কিন্তু সৌমিত্র নিজে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে