চিপকো আন্দোলনের ছায়া এবার মধ্যপ্রদেশে, কাটা হবে প্রায় দুই লাখ গাছ

0
71

ডায়মণ্ড খননের জন্য মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলার বাক্সওয়াহা জঙ্গল কাটা হবে যেখানে গাছের সংখ্যা প্রায় ২,১৫,৮৭৫। এটি হচ্ছে ৩৬৪ হেক্টর জমি নিয়ে। এই প্রজেক্টের মালিকাধীন দেওয়া হয়েছে আদিত্য বিড়লা গ্রুপের একটি কোম্পানি EMIL(essel mining and industries limited) কে। এটি প্রায় ৫৫,০০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট। এর বদলে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ক্যারেট ডায়মন্ড পাওয়া যাবে। ২০২২ থেকে শুরু হতে চলেছে এই প্রোজেক্ট। এটি সফল হলে এশিয়ার বৃহত্তম ডায়ামন্ড খনন প্রোজেক্ট হবে।

এর আগে ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বড় গ্রুপ RIO TINTO-এর হাতে এই কাজের দায়িত্বভার দেওয়া হয়। তখন জমির পরিমাণ ছিল ৯৫৪ হেক্টর জমি। কিন্তু বিরোধী দলের জন্য এই প্রোজেক্ট বন্ধ করতে হয়ছিল। বর্তমানে আবার এই কাজ চালু করা হয় আদিত্য বিড়লা গ্রুপের অধীনে। যদিও জমি কমিয়ে ৩৬৪ হেক্টর করা হয়। EMIL কোম্পানি কে ৫০ বছরের জন্য এই কাজে চুক্তি করা হয়। এর জন্য মধ্যপ্রদেশ সরকার প্রায় ১,৫৫০ কোটি টাকা পেতে পারে।

বাক্সওয়াহা জঙ্গলের আশপাশে পান্না ন্যাশনাল পার্ক এবং নওরাদেহি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি রয়েছে যার কারণে সাধারণ লোকেরা এই প্রজেক্টের তীব্র বিরোধিতা করছে। এর আশপাশে থাকা ৭০০০ গ্রামবাসী এই জঙ্গলের ওপর ভিত্তি করেই জীবনযাপন করে তাছাড়াও এই প্রজেক্ট সম্পূর্ণ করতে গেলে প্রতিদিন প্রায় ৫.৯ কিউবিক মিটার জল প্রয়োজন আর সেখানকার সাধারণ মানুষের মতে তারা যদি এখানেই সমস্ত জল খরচ করে তাহলে তাদের জন্য আর কিছু থাকবে না কারণ মধ্যপ্রদেশে একেতেই জলের অভাব। রিজার্ভের থেকে জল পায় সেখানকার সাধারণ লোকেরা।

যদিও মধ্যপ্রদেশ সরকারের মতে এগুলি সবই বিরোধীদের চাল কারণ এই প্রজেক্ট সম্পন্ন হলে এখানকার সাধারণ মানুষেরা কাজের সুবিধা পাবে। গত ৫ জুন চিপকো আন্দোলনের মতন বাক্সওয়াহা আন্দোলন করে সেখানকার গ্রামবাসীরা অন্য হ্যাশট্যাগ “সেভ বাক্সওয়াহা ফরেস্ট” দিয়ে প্রতিবাদ করেন।

By Susmita Nandi

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে