ছট পূজোয় এইসব নিয়ম মেনে করলেই হবে সমস্ত ইচ্ছাপূরণ

0
22

দীপাবলির ছয় দিন পরে ও কার্তিক মাসের শুক্লা পক্ষের ষষ্টী তিথিতে ছট পূজো হয়ে থাকে। ৪ দিনের এই পূজোর আরাধ্য দেবতা হলেন সূর্য দেব ও ছটি মাইয়া। সংসারের সুখ, শান্তির উদ্দেশ্যেই মূলত ছট পূজো করা হয়ে থাকে। ছট পূজোয় সূর্য দেবতা সব ইচ্ছা পূরণ করেন এই বিশ্বাসে অনেকে পূজো করে থাকেন। ‘ছটি’, ‘ছট পরব’, ‘ছট পূজা’, ‘ডালা ছট’, ‘সূর্য ষষ্ঠী’র মতো নানা নামে পরিচিত ছটপূজো মূলত বিহার, ঝাড়খন্ডে পালিত হলেও এখন সারা ভারতে ছট পূজো হয়ে থাকে। ছট পূজো ব্রত যারা করেন তারা প্রায় ৪০ ঘন্টা নির্জলা উপবাস করেন।

ছট পূজোর নিয়মরীতি জেনে নেওয়া যাক

ছট পূজোর প্রথম দিন নহায় খায়। সকালবেলা স্নান করে পরিষ্কার কাপড়ে রান্না করতে হয়। রান্না নয় লাউ ভাত অর্থাৎ ভাত আর লাউয়ের তরকারি, চানা ডাল ও বিভিন্ন রকমের সব্জি। সমস্ত রান্না হতে হবে নুন ছাড়া। সকালে পরিবারের সকলে এই খাবারই খান। শুধুমাত্র যিনি ব্রত করেন তিনি কিছু খান না। রাতের বেলা তেমন কোন নিয়ম নেই নিরামিষ যেকোন খাবারই খাওয়া যায়।

ছট পূজোর দ্বিতীয় দিন হয় খরনা। ছট পূজোর দ্বিতীয় দিনটি সব থেকে গুরুতবপূর্ণ। এইদিন বাড়ির মহিলারা সকলে উপোস করে সন্ধ্যায় বাড়িতে ছট পূজো করেন। সূর্য দেবতাকে নিবেদন করা হয় ক্ষীর, রুটি এবং কলা। তারপরে শুরু হয় ঠেকুয়া বানানোর কাজ। ডালা সাজানোর কাজও শুরু হয় দ্বিতীয় দিন থেকেই। যিনি ব্রত করেন তিনি সারাদিনই উপোস করেন।

ছট পূজোর তৃতীয় দিন সন্ধ্যা অর্ঘ্য। বিকেলে পুকুরে, নদীতে বা যেকোন জলাশয়ে গিয়ে ডুবন্ত সূর্যকে পূজো করা হয়। তারপরে পরিবারের সকলের নাম করে একটি একটি করে প্রদীপ জলাশয়ে ভাসিয়ে দিতে হয়।

শেষ দিন সূর্যোদয় অর্ঘ্য। ভোরে সূর্য ওঠার আগে জলাশয়ে গিয়ে অর্ঘ্য দিয়ে শেষ হয় ছট পূজোর। বাড়ি ফিরে ব্রতকারীরা প্রায় ৪০ ঘন্টা পর আদা, জল, ঠেকুয়া, গুড় ও চালের লাড্ডু খেয়ে উপোস ভাঙেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে