Get vaccinated, ভয়ের কোনো কারণ নেই; চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মত

0
17



Ritika Roy, DNI: করোনা মহামারিতে লড়াই করছে পুরো পৃথিবী। কোটি কোটি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং এখনও প্রাণ হারাচ্ছেন। এর মধ্যেই ভারত এবং অন্যান্য দেশ-বিদেশে সবাই চেষ্টা করে চলেছে এই রোগ নিরাময়ের জন্য। এবং ভারত সহ অনেক দেশে সফল হয়েছে এর প্রতিষেধক হিসাবে ভ্যাকসিন তৈরিতে। ভারতে চারটি ভ্যাকসিন যথা কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিন, মডার্না এবং স্পুটনিক ভি অনুমোদিত হয়েছে। এই টিকাকরণ শুরু হয়েছে এইবছর ১৬ জানুয়ারি থেকে।

জানুয়ারী মাসে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) ভারতে দুটি ভ্যাকসিন, অর্থাৎ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিশিল্ড এবং ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন, জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত অনুমতি দিয়েছিলেন সরকার। ভারতের কাছে দুটি ভ্যাকসিন আছে। কিন্তু এই দুটি ভ্যাকসিন পুরো ভারতবাসীকে দেওয়া সম্ভব ছিল না। এবং করোনা সংক্রমণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। তাই এপ্রিল মাসে ডিসিজিআই জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের জন্য রাশিয়ার স্পুটনিক ভি টিকাকে ছাড় দিয়েছিলেন এবং সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া জুনে স্পুটনিক ভ্যাকসিন দেশে উৎপাদনের ছাড়পত্র পায়। জুন মাসে চতুর্থ ভ্যাকসিন হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রিত ভাবে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পায় মডার্না।

এর ফলে সমস্ত জনসাধারণকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু এই ভ্যাকসিন কতটা কার্যকরী এবং নিরাপদ সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়! কারা নিতে পারবেন এই টিকা? ঠিক কি কি বিধি মেনে চলতে হবে? সব প্রশ্ন জনসাধারণের।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধন জানিয়েছেন কোভিড-১৯ প্রতিষেধক হিসেবে কোভ্যাক্সিন এবং কোভিশিল্ড দুটোই নিরাপদ। ভারতীয় সংস্থা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাস্ট্রোজেনেকার যৌথভাবে তৈরি করোনা টিকার উৎপাদন করছে। বিদেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রায় সার্বিকভাবে টিকার ৭০ শতাংশ এর বেশি কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে। প্রত্যেকের বয়স ১৮ বা তার উর্ধ্বে ছিল। কোভ্যাক্সিন এর প্রসঙ্গে ডিসিজিআই জানান, যে প্রক্রিয়ায় আইসিএমআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির (এনআইভি) সঙ্গে যৌথভাবে যেভাবে করোনা টিকা তৈরি করেছে ভারত বায়োটেক, তা অত্যন্ত সুরক্ষিত পদ্ধতি। ভারত বায়োটেক আবেদন, তিনটি ট্রায়াল এর পর্যাপ্ত পর্যালোচনার পরই বিশেষজ্ঞ কমিটি অনুমোদন দেয়। টিকার সুরক্ষার বিষয়ে একেবারে নিশ্চিত হয়েই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডিসিজিআই। তিনি বলেন, ‘সুরক্ষা নিয়ে ন্যূনতম উদ্বেগ থাকলেও আমরা কোনও কিছুর অনুমোদন দিতাম না।’ আর হালকা জ্বর, অ্যালার্জি, ব্যাথা এইগুলো খুবই সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেকোনো টিকার ক্ষেত্রে। টিকা নিয়ে অনেক ভুয়ো তথ্য রটানো চলছে।

এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০-৭০ লক্ষ মানুষ টিকাকরণ হয়েছে কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ মেলেনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। যাঁরা টিকা নিচ্ছেন তাঁরা যে কোনও একটি সংস্থারই টিকা নিতে পারবেন। টিকার প্রথম ডোজ যে সংস্থার হবে, দ্বিতীয় ডোজটিও ওই সংস্থারই নিতে হবে। সরকার জানিয়েছে, ১৮ বছরের বেশি বয়সি ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া হবে। অগ্রাধিকার পাবেন স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রথম সারির কর্মীরা। এর পর টিকা পাবেন বয়স ও সুস্থতার নিরিখে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শ্রেণির মানুষ। আইসিএমআর জানিয়েছেন গর্ভবতী মহিলাদের টিকা দেওয়া যাবে এই নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক নির্দেশিকা জারি করেছে।

এর টিকাকরণের জন্য যে নথি জমা দিতে হবে তা হল, পরিচয়পত্র দেখাতে হবে নাথ নথিভুক্তির সময় – আধার কার্ড/ভোটার কার্ড/পাসপোর্ট/ ড্রাইভিং লাইসেন্স/প্যান কার্ড/পেনশানের সচিত্র নথি। স্বাস্থ্য পরিষেবায় যুক্তরা অফিসের পরিচয়পত্র দেখালেও হবে। এলাকার মিউনিসিপ্যালিটি জমা দিতে হবে। কেউ হসপিটাল বা নার্সিং হোম থেকেও দেওয়া হচ্ছে। এবং co-win অ্যাপ এর মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করা যাবে। নিজেকে এবং পরিবারকে করোনা মুক্ত রাখতে এই তিনটি পদক্ষেপ মেনে চলা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রামিত হওয়া থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখুন ; করোনা উপসর্গ বিষয়ে সজাগ থাকুন ; করোনা প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং সঠিক মাস্ক পড়া, দূরত্ব বিধি মানা, হাত পরিষ্কার রাখা। ও টিকা নিতে দ্বিধা না করে প্রত্যেকে সঠিক সময়ে গ্রহণ করা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে