তামিলনাড়ুর অন্যতম উৎসব হল জাল্লিকাট্টু, জেনে নিন ঠিক কি তাৎপর্য এই উৎসবের

0
368

সংস্কৃতিগত দিক থেকে ভারতবর্ষ হলো এক বহুমুখী বৈচিত্রের দেশ। ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি যেমন আলাদা তেমন সেই সংস্কৃতিকে ঘিরে আনন্দ-উৎসব, পার্বণ গুলিও আলাদা। আমাদের দেশে কিছু কিছু উৎসব আছে যেগুলি সর্বভারতীয় স্তরের। যেমন নবরাত্রি, দুর্গোৎসব, হোলি, দিওয়ালি প্রভৃতি। এগুলির মতই অন্য আরেকটি উৎসব হলো মকরসংক্রান্তি। মকরসংক্রান্তি সাধারণত ১৪ জানুয়ারির আগে বা পরে আসে। ভারতীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী বাংলার পৌষ মাসের শেষ হয় এবং ধীরে ধীরে শীতের প্রকোপ কমতে থাকে। এই মকরসংক্রান্তির দিনটিকে কেন্দ্র করে ভারতবর্ষের দক্ষিণে একটি রাজ্য তামিলনাড়ুতে পোঙ্গাল বলে একটি উৎসব হয়ে থাকে। পোঙ্গাল সাধারণত নবান্ন উৎসব এবং এটি মকরসংক্রান্তির দিন থেকে শুরু হয়। পৌষ মাসের শেষ দিনের শুরু এবং পরের মাসের তৃতীয় দিন পর্যন্ত যা তামিলনাড়ু বাসীর কাছে ‘থাই’ নামে পরিচিত এই সময়গুলোতে পোঙ্গাল উৎসবটি পালন করে থাকে।

পোঙ্গাল উৎসব এর একটি অন্যতম বিশেষত্ব হলো এই উৎসবকে কেন্দ্র করে জাল্লিকাট্টু নামে একটি উৎসব হয়ে থাকে যা মূলত তামিল সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই উৎসবটি প্রাচীনকাল থেকে পরম্পরাগত। প্রায় দুই থেকে দেড় হাজার পূর্বাব্দে নীলগিরির কাছে পাথরে খোদাই করা ষাঁড়ের মূর্তি দেখা গেছে। এই উৎসবটি বিখ্যাত বিশেষ করে তামিলের মাদুরাই বলে একটি স্থানে। পোঙ্গাল হল প্রধান ও প্রাচীন উৎসব এই অঞ্চলে আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে এই জাল্লিকাট্টু নামে ষাঁড়ের খেলার মধ্য দিয়ে।

জাল্লিকাট্টু আসলে পার্কে নিয়ন্ত্রণে আনার খেলা এবং এটি সাধারণত একদল মানুষের কসরত এর নির্ভর করে। এক্ষেত্রে পাতলা সার্কের রাগিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে মাদক ইনজেকশন দেওয়া হয় বা চোখে লঙ্কার গুঁড়ো দেওয়া হয়। অনেক পশুপ্রেমী কাছে এটি নিষ্ঠুর । তাই ২০১৪ সালের সুপ্রিম কোর্ট উৎসবকে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষের আন্দোলনের ফলে এবং যেহেতু এটি একটি ভারতীয় সংস্কৃতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাই কেন্দ্রীয় সরকার পুনরায় ২০১৭ সাল থেকে এই উৎসবটি চালু করার নির্দেশ দিয়েছে। এই খেলাটি যখন সংঘটিত হয় তখন তার চারিদিকের অনেকগুলি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয় কারণ এক্ষেত্রে অনেকের আহত হওয়ার আশঙ্কা থেকে থাকে। ষাঁড়টিকে প্রথমে ভিড়ের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয় এবং পিঠে উঠে একজন তাকে থামানোর চেষ্টা করে। শিংয়ের পতাকা খোলার মধ্য দিয়ে খেলা শেষ হয়।

এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সমস্ত পুরাতনকে এবং অশুভকে বিসর্জন দেয়ার লক্ষ্যে ওই অঞ্চলের মানুষ আগুনে পুরনো কাপড় এবং অন্যান্য জিনিস আহুতি দেন। তারপর ফোটানো হয় মুগের ডাল এবং এর পাশাপাশি গরম দুধ রাখা হয়। মানুষ মনে করে গরম দুধ উথলে উঠলে তাদের সমাজের পক্ষে শুভ। মধ্যযুগীয় সময় থেকে এই জল্লিকাত্তু উৎসব ভারতের অন্যতম ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম একটি অঙ্গ যা ভারতের ঐতিহ্য, পরম্পরা ও সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

By Lipika Sardar

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে