রাজ্যপালের এক্তিয়ার কতটা? সংবিধানে কী বলা আছে দেখে নেওয়া যাক

0
96

রাজ্য সরকার আর রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের সংঘাত রয়েছে চরমে। তৃণমূলের দাবি ছিল রাজ্যপাল সংবিধান মেনে কাজ করছেন না। তাই রাজ্যপালের অপসারণের দাবি জানিয়ে আক্রমণাত্বক ভঙ্গিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হয়েছিলেন তৃণমূলের সুখেন্দুশেখর রায়। তিনি ১৯৭৩ সালের শমশের সিং বনাম পঞ্জাব সরকারের মামলা তুলে বলেছিলেন যে, কেন্দ্র দ্বারা নির্বাচিত কোনো সাংবিধানিক কর্মকর্তা যদি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে নথিপত্র তৈরি করেন অথবা তার বা তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পাঠান অথবা মন্ত্রীসভা অনুমোদিত কোনো সরকারি নীতির বিরোধিতা করেন কিংবা সরাসরিভাবে প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করেন তবে এটি সংশোধিয় ব্যবস্থার বিপরীতধর্মী বলে গণ্য করা হবে।

সংবিধান রাজ্য হোক কি রাজ্য সরকার সবেতেই লক্ষণরেখা ঠিক করে দেয়।
১. সংবিধানের ১৬৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রী পরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী রাজ্যপাল নেবেন।
২. সংবিধানের ১৬৩(২) ধারায় কোনও বিষয়ে বিরোধ হলে রাজ্যপাল বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে রাজ্যপালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

অপরদিকে ১৯৭৩ সালের শমশের সিং বনাম পঞ্জাব সরকারের মামলায় সংবিধান রাজ্যপালের এক্তিয়ার নিয়ে বলে যে,
১. রাজ্যপাল কোনোভাবেই সরকারের প্রতিপক্ষ নয়।
২. মন্ত্রীদের পরামর্শ মেনেই রাজ্যপালকে চলতে হবে।
৩. রাজ্যপালের যে বিশেষ ক্ষমতা তা সংকীর্ণ এবং পিচ্ছিল।
৪. সংবিধান বিশেষ ক্ষমতা দিলেও রাজ্যপাল তা চাইলেই প্রয়োগ করতে পারেন না।
৫. রাজ্যপালের পদক্ষেপের রিমোট-কন্ট্রোল থাকে সরকারের হাতে এবং প্রয়োজনে প্রতিটা পদক্ষেপে কেন্দ্রীয় সরকারকে সংসদে জবাবদিহি করতে হবে।
৬. মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পাঠানো, সরকারের নীতির প্রকাশ্যে সমালোচনা, প্রশাসনিক কাজে সরাসরি নাক গলানো-এ সবই অসাংবিধানিক, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।

রাজ্যপালের দাবি তিনি কখনই সাংবিধানিক লক্ষণরেখা অতিক্রম করেননি। কিন্তু আদতে তা কি সত্যি সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন মানুষের কাছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে