রিহ্যাব সেন্টারে গিয়ে চরম পরিণতি যুবকের

0
66



Ritika Roy, DNI: বাসে ট্রেনে ফুটপাতে যাতায়াতের সময় নজর কাড়ে দেওয়ালে লাগানো বিজ্ঞাপন। এর মধ্যে সব থেকে বেশি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন হল ‘নেশা ছাড়ান, গোপনে’ অর্থাৎ নেশা মুক্তি সংস্থা। বা যেটাকে রিহ্যাব সেন্টারও বলা হয়। কিন্তু এই রিহ্যাব সেন্টারের ভেতরে কি ভাবে রোগীদের চিকিৎসা করা হয়, তা কিন্তু আমরা জানতে পারিনা। এই অজানা থেকেই কিন্তু ঘটে যায় দূর্ঘটনা।

ঠিক তেমনি , বুধবার দিন ঘটে যায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা বিরাটি সংলগ্ন এলাকার নিমতা অঞ্চলের একটি রিহ্যাব সেন্টারে। কল্যানী রোডের পাশে একটি বাড়ি ভাড়া করে সেখানে সেন্টার শুরু করেন অপু নামক এক ব্যাক্তি। সেই সেন্টারটির নাম হল সুদৃষ্টি। স্বভাবতই অনেক নেশাগ্রস্থ রোগীদের সেখানে ভর্তি করা হয়।

বিরাটির বাসিন্দা পার্থ রাহা কেও কিছুদিন যাবত ভর্তি করেছিলেন তার ভাই প্রণব রাহা। পার্থ রাহা ওরফে বাপন যিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকতায় আসক্ত ছিলেন। তার পরিবার ও ভাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে রিহ্যাব ভর্তি করেন। সেন্টারের মালিকের সাথে প্রণবের আলাপ ছিল এবং একটি রিহ্যাব সেন্টার খুলবে বলেও তার রেজিস্ট্রেশন করবে বলে টাকা নেন অপু। কিন্তু তিনি কোনো রেজিষ্টার করেননি। যে রোগীদের সেখানে রাখা হয়েছিলো তাদের উপর অত্যাচার করা হতো। মারধর করা হতো রোজ। চিকিৎসা তো দূর তাদের খেতে দেওয়া হতো না এবং রোগীরা ভয়ে তাদের পরিবারকে কিছু জানতে পারতনা। পার্থ কেও মারধর করা হত। কিন্তু সে একদিন লুকিয়ে তার ভাইকে ফোন করে বলে তাকে খেতে দেয়না, বকাঝকা করে। বাড়ির লোক মিথ্যে কথা ভাবে এবং গত মঙ্গলবার তার ভাইয়ের বাড়িতে নিয়ে আসার কথা ছিল পার্থকে। কিন্তু সেন্টারের মালিক বলে “এখন ঠিক আছে , একটু বকাঝকা করা হয়েছিল, এখন সুস্থ আছে , বৃহস্পতিবার এসে নিয়ে যাবেন।” বুধবার দিন সকালে তার বাড়িতে ফোন করে বলা হয় পার্থর মাথায় চোট লেগেছে, তাকে পানিহাটি স্টেট জেনারেল হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। রোগীর পরিবার যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছায় ডাক্তার জানায় সে মৃত এবং জানায় যে মাথার পেছনে আঘাতের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে।

তারা সবাই নিমতা থানায় মামলা দায়ের করেন। এবং বুধবার রাতে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেন্টারের মালিক এখনও নিখোঁজ। আশপাশ থেকে খবর পাওয়া গেছে সেন্টারের জানলা বন্ধ থাকতো, কোনো ডাক্তার বা কেও তেমন যাতায়াত করতো না কখনো। ফলে কোনো রোগী বাইরের কারুর সাথে যোগাযোগ করতে পারতো না। বাকি রোগীদেরও সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এর তদন্তভার গ্রহণ করেছে পুলিশ।

এই রকম রিহ্যাব সেন্টার আমাদের শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে। তাদের হয়তো কোনো রেজিষ্টার বা সঠিক কাগজপত্র নেই। তাই কোনো রোগীকে ভর্তি করার আগে সমস্ত কিছু পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার এবং প্রশাসমের উচিত কেও রিহ্যাব শুরু করলে তার অবস্থান, সেন্টারের মালিকের তথ্য সঠিক ভাবে যাচাই করে নেওয়া।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে