লোকাল ট্রেনে ভিক্ষার দিন পেছনে ফেলে, ভারতের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের চিত্র সংবাদিক জয়া থমাস লোবো

0
85

লোকাল ট্রেনই যার বেচেঁ থাকার রসদ জোগাত, তাকে সঙ্গী করেই পথ চলা শুরু জয়ার। সারাদিন দিল্লির লোকাল ট্রেনে ভিক্ষার মাধ্যমে যা উপার্জন হতো তাতেই দিন কাটত তার। অন্যদিকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ার দরুণ নানাভাবে হেনস্তা হতে হতো জনসাধারণের কাছে। কিন্তু না, তাতেই থেমে থাকেননি তিনি। এক অদম্য লড়াইয়ের পর ভারতের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের সাংবাদিক হয়ে উঠেছেন জয়া থমাস লোবো। তার চেহারার বর্ণনা দিতে গেলে বলা যেতে পারে চোখে ঘন করে কাজল পড়া, কানে সোনালী দুল, গলায় মোটা চেন আর হাতের একটা ছোট্ট ব্যাগ। আধো ভাঙ্গা ইংরাজিতে মানুষের সাথে কথা বলার চেষ্টাই প্রমাণ দেয় তার অফুরান আত্মবিশ্বাসের।

ছোট থেকেই জীবনে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন জয়া। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ার অপরাধে স্কুল থেকে বিতাড়িত করা হয় তাকে। তারপর থেকেই মা এবং ছোটো দুই ভাইবোনের পরিবারে ওই ছোটবয়সেই রোজগারের পথ খুঁজতে হয় জয়াকে। রেল স্টেশনের কাছেই মহিম কাপড় বাজারে থাকতেন তারা। তাই রেলের কামরাকেই রোজগারের প্রথম মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন। নিজের জীবন প্রসঙ্গে জয়া জানান, “মাত্র ১১ বছর বয়সে আমি অন্যান্য ছেলেদের সঙ্গে নিজের পার্থক্যটা বুঝতে পারি। মার খাওয়ার ভয়ে সে সময়ে কারোর সঙ্গেই কথা বলতে পারতাম না। হেনস্থার ভয়ে একের পর এক বাড়ি বদল করেছি আমরা। ১৭ বছর বয়সে গুরু সালমার সঙ্গে পরিচয় হয় আমার। তিনিই আমাকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করান। নিজের পরিচয় গড়ে তুলতেও সাহায্য করেন তিনি।”

করোনার প্রকোপে গতবছর লকডাউনের জেরে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলেও জয়ার জন্য তা হয়ে যায় আশীর্বাদস্বরূপ। বন্দ্রা স্টেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের অবরোধের ছবি তুলেই চিত্র সাংবাদিক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। প্রথম চিত্র সাংবাদিক হিসাবে আত্মপ্রকাশের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে জয়া জানিয়েছেন, “লোকাল ট্রেন থেকেই আমার এই নতুন অধ্যায়ের যাত্রা শুরু। বন্দ্রা স্টেশনে একশোর বেশি পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতিবাদের দৃশ্য দেখেই প্রথম সেটি ক্যামেরা বন্দি করার ইচ্ছা হয়। আমি বাড়ি থেকে ক্যামেরা নিয়ে এসে সেই ছবি তুলে রাখি। পরে সেই ছবিই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।” ছোটো থেকেই ছবি তোলার অদম্য ইচ্ছা থাকলেও তার সুযোগ সেইসময় পাননি তিনি। আর একবার সুযোগ পেয়ে সেটা হাতছাড়া করতে চাননি জয়া। সমাজের মানুষের সকল কটুক্তির শিকার হয়ে, জীবনে বেচেঁ থাকার লড়াইকে সাক্ষী করে হয়ে উঠেছেন ভারতের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের সাংবাদিক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে