শুভদীপ এর দূর্গা মূর্তির প্রতি আকর্ষণ এর থেকেই – নন্দী পরিবারের ১৪তম বছরের পুজো।

0
88

নন্দী পরিবারের এই পুজোর শুরুটা খুব অদ্ভুত ভাবে। 2007 সাল নাগাদ খেলার ছলে এই পরিবারের সদস্য বালক শুভদীপ দূর্গা মূর্তির প্রতি একটা আকর্ষণ এর থেকেই খেলার ছলে একটা ছোট দুর্গা মূর্তি তৈরি করে আটা দিয়ে। এবং যারপরনাই শিশুসুলভ আচারেই ফল মিষ্টান্ন নৈবেদ্য সহযোগে দেবীর পুজো শুরু হয়। পরবর্তীকালে সেই শিশুসুলভ পূজাকে কেন্দ্র করেই যখন পরিবারের সকলের তথা আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবদের আকর্ষণ বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন সেই পুজো সার্বিকভাবে শারদীয়ার সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে শুরু হয়। তবে হ্যাঁ প্রতিমাশিল্পী সেই বালক শুভদীপ আজ পরিণত যুবক। সে এখনো নিজের হাতেই খর মাটি দিয়ে মহামায়ার মূর্তি তৈরি করে বাড়িতেই। আর মহামায়ার মূর্তিও এখন আর দশ পাচটা বনেদি বাড়ির প্রতিমার মতই আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেবী এখানে মহামায়া রূপে পূজিত। মহালয়ার দিন রীতি মেনে এখানে হয় দেবীর চক্ষুদান।এখানে পুজো হয় সম্পূর্ণ বৈষ্ণব মতে। কালিকা পুরাণ মতে এখানে পুজো করা হয়। পুজোর সময় ঠাকুর ঘর থেকে শালগ্রাম ও বাণলিঙ্গ শিবকে পূজা স্থলে নিয়ে আসা হয়। চারদিন দেবীর সঙ্গে এনারাও পুজো পান। কাঠামো বাধার কাজ শুরু হয় উল্টো রথের দিন। সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান হয় বাড়িতেই। নবপত্রিকার প্রত্যেকটি উপাদান এখানে আলাদা আলাদাভাবে সংগ্রহ করে এনে বাড়িতেই নবপত্রিকা তৈরি করা হয়। পঞ্চামৃত দ্বারা দেবীর স্নান হয়। মহাষ্টমীর হোম এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রতিদিনই দেবীর ভোগে ও থাকে বৈচিত্র। মহাসপ্তমীর ভোগ হয় লুচি দিয়ে। মহাঅষ্টমীর ভোগে থাকে খিচুড়ি, পাঁচ রকম ভাজা, নানা রকমের তরকারির পদ। নবমীতে হয় পোলাও ভোগ। বিজয়া দশমীতে দেবীকে দই ,শর্করা ,খই ,মিষ্টি, মন্ডা সহযোগী দধিকর্মা ভোগ দেওয়া হয়। ষষ্ঠী থেকে দশমী অব্দি দেবীর প্রসাদে থাকে নানান রকমের রচনা ভোগ। মুরকি মোয়া নাড়ু গজা সহ আরো নানান রকমের রচনা ভোগ থাকে। সপ্তমী থেকে নবমী অবধি চলে চণ্ডীপাঠ। পুজোর সূচনাটা খেলার ছলে হলেও দেবীর কাছে কোন কিছু প্রার্থনা করে এখানে কেউ নিরাশ হননি। দেবী সকলের অভিষ্ঠ পূরণ করেছেন। সন্ধি পূজার সময় এখানে কোনো রকম বলিদান হয় না পরিবর্তে চাল কুমড়ো বা শসা অর্ঘ্য দেওয়া হয়। এ-বাড়ির গৃহদেবতা গোপালের বিশেষ পূজা হয় দূর্গা পূজা চলাকালীন। দেবীর সঙ্গে যেন এখানে সকলেরই ভালোবাসার সম্পর্ক। অনেকেই দেবীকে ভালোবেসে রত্ন উপহার দিয়েছেন। অনেক অচেনা মানুষ দেবী র টানে এসেছেন এই পুজোতে হয়ে উঠেছে একান্ত আপন দেবীর পূজার মাধ্যমে। সম্পূর্ণ নিষ্ঠা সহযোগে অতিরিক্ত আরম্বর ছাড়া শুদ্ধ ভক্তি দিয়ে মহামায়ার আরাধনা হয় এখানে। সারাবছর দেবী এখানে নিত্য পূজিত হন। শারদীয়া দুর্গাপূজা ব্যতীত বিপদতারিনী চন্ডী ব্রত এর সময় বিশেষ পুজো হয় এখানে। দশমীর পুজোর শেষে এখানে হয়না অপরাজিতা’ পুজো। দেবীবরণ হওয়ার পর বিকালে আগের বছরের প্রতিমা, নবপত্রিকা ও ঘট নিরঞ্জন করা হয়। পালন করা হয় বিজয়া উৎসব। আবার শুরু হয় আগামী বছরে মায়ের আগমন এর প্রতীক্ষা।

কলমে শুভদীপ নন্দী

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে