শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের পাঁচটি কারণ সবিস্তারে।

0
39
শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের পাঁচটি কারণ সবিস্তারে।

এক ঝলকে –
শ্রীলঙ্কা অর্থনৈতিক সংকট: দক্ষিণ এশীয়ার Twin Deficits Economy এর একটি সর্বোত্তম উদাহরণ হয়ে উঠেছে, যেখানে জাতীয় ব্যয় জাতীয় আয়ের চেয়ে বেশি এবং আমদানি রপ্তানির চেয়ে বেশি

Advertisement

বছরের পর বছর জমতে থাকা ঋণের কারণে বিলিয়ন বিলিয়ন ঋণ, রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার অভাব, মহামারীর কারণে চাহিদার তীব্র পতনে গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঘাটতি এবং কথিত সরকারি অব্যবস্থাপনা শ্রীলঙ্কাকে এমন পরিস্থিতিতে টেনে এনেছে শুধুই তা নয়, অর্থনৈতিক সংকটের কিন্তু আরেকটি কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা।

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের পাঁচটি কারণ সবিস্তারে।

দক্ষিণ এশীয় দেশটি একটি Twin Deficits Economy একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে, যেখানে জাতীয় ব্যয় জাতীয় আয়ের চেয়ে বেশি এবং আমদানি রপ্তানির চেয়ে বেশি। এটাও স্পষ্ট দেশটি সাহায্য না পেলে নিজেকে দাঁড় করাতে সক্ষম হবে না। সংকট থেকে বাঁচতে Asian Development Bank, ভারত ও চীনের কাছে আবার ঋণ চেয়েছে।

এই অবস্থায়, ক্ষমতাসীন জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। সহিংস বিক্ষোভের মাঝে প্রধানমন্ত্রী Mahinda Rajapaksa এর মন্ত্রিসভার 26 জন মন্ত্রীর পদত্যাগের পর সোমবার ‘Unity Government’ গঠনের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি Gotabaya Rajapaksa এর একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধীরা। জ্বালানি, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের তীব্র ঘাটতির মধ্যে মানুষ তাদের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে।

আজও রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন তবে বলেছেন যে সংসদে 113টি আসন ধরে রাখতে সক্ষম দলের কাছে সরকার হস্তান্তর করতে প্রস্তুত।

এই অবস্থায় শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক সঙ্কট ক্রমাগত বাড়তে থাকা এবং এই বিপর্যয়ে ভূমিকা পালনকারী কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণের দিকে নজর দেওয়া যাক:

বৈদেশিক রিজার্ভের ঘাটতি

সরকারের কথিত অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক রিজার্ভের 70% শেষ হয়ে মাত্র $2.31 বিলিয়ন বাকি আছে এবং $4 বিলিয়নেরও বেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। চিনি, ডাল এবং খাদ্যশস্যের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসগুলির আমদানির উপর শ্রীলঙ্কার নির্ভরতা অর্থনৈতিক মন্দায় অগ্নি সংযোগ করেছে কারণ দ্বীপ দেশটির আমদানি খরচ পরিশোধের জন্য বৈদেশিক রিজার্ভের অভাব রয়েছে। Gotabaya Rajapaksa সম্প্রতি বলেছিলেন যে শ্রীলঙ্কা চলতি বছরে 10 বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতির মুখোমুখি হতে পারে।

Covid-19 মহামারীর প্রভাব

Covid-19 মহামারীতে পর্যটন শিল্প, যার উপর দ্বীপ দেশটির বিদেশী মুদ্রা অর্জন অনেকটাই নির্ভর করে সেটি প্রচণ্ড হ্রাস পেয়েছে যা বর্তমান সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পর্যটন, যা শ্রীলঙ্কার জিডিপির 10 শতাংশেরও বেশি, তিনটি প্রধান দেশ: ভারত, রাশিয়া এবং UK পর্যটক হারানোর পরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সেই কারণে মুদ্রাস্ফীতি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে অপরিশোধিত তেল, সূর্যমুখী তেল এবং গমের মূল্যস্ফীতি বিশ্বব্যাপী বেড়েছে। অশোধিত তেলের দাম 14 বছরে রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে এবং সংকটের সময় দাম $125/ব্যারেলে পৌঁছেছে। প্রতিশ্রুত তেলের $500 মিলিয়ন ক্রেডিট লাইনের অধীনে ভারতকে 40,000 মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করে পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। ভারত এ পর্যন্ত গত 50 দিনে 2,00,000 মেট্রিক টন জ্বালানি সরবরাহ করেছে দ্বীপ দেশটিতে।

কৃষির সংকট (রাসায়নিক সার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত)

কৃষিকে 100 শতাংশ জৈব করতে গত বছর হটাৎ করে রাত্রি দশটায় সমস্ত রাসায়নিক সার নিষিদ্ধ করার Rajapaksa সরকারের সিদ্ধান্ত দেশের কৃষি উৎপদনকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছিল, বিশেষ করে ধান এবং চিনির উৎপাদনে এই সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হতে হয়েছিল কিন্তু তার প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেনি শ্রীলঙ্কা।

FDI এর তীব্র পতন

বর্তমান রাষ্ট্রপতি Gotabaya Rajapaksa এর শাসনকালে দেশে FDI ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সরকারী তথ্য অনুযায়ী, 2020 সালে FDI দাঁড়িয়েছে $548 মিলিয়নে, যেখানে 2019 সালে ছিল $793 মিলিয়ন।

চলবে……..

From DNI Desk

Advertisement

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে