তৃতীয়বার দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জেনে নেওয়া যাক তার সাধারণের মাঝে সেরা হওয়ার লড়াইয়ের গল্প

0
143

কে ভেবেছিল সামান্য এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণকারী মমতা একদিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবে? দশ জনের মতন সাধারণ ভাবে পড়াশোনা করেও বাংলার প্রথম ও দেশের একমাত্র উচ্চ শিক্ষিতা মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, প্রথম মহিলা রেলমন্ত্রী, প্রথম মহিলা ক্রীড়া ও যুবকল্যান মন্ত্রী হওয়া সত্যিই স্বপ্ন বটে। বিধানচন্দ্র রায়, জ্যোতি বসুর পর টানা তিনবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শিক্ষা জীবন :
বীরভূমে জন্মগ্রহণ করলেও দক্ষিণ কলকাতায় বসবাসকারী মমতা ব্যানার্জি তার শিক্ষা জীবনে যোগমায়া দেবী কলেজে ইতিহাসে অনার্স এবং যোগেন্দ্র চন্দ্র কলেজ থেকে তার ইসলামিক ইতিহাসে M.A এবং LLB ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি আঁকা এবং কবিতা লিখতে ভালবাসেন।

রাজনৈতিক জীবন :
১৯৭০ সালে ছাত্র পরিষদের হাত ধরে যোগমায়া দেবী কলেজে ছাত্র সংগঠন স্থাপনই ছিল রাজনৈতিক জীবনে মমতা ব্যানার্জির প্রথম পদক্ষেপ। এরপর ১৯৮৮ সালে তিনি যুব কংগ্রেসের নেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত হন। আজ থেকে ঠিক ১০ বছর আগে ২০১১ সালের ২০ মে মমতা ব্যানার্জি প্রথমবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে বিরাজ করেন। ২০২১ সালের তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয় তিনি প্রমাণ করে দিলেন মানুষের মন জয় করতে পারলে যে কোন কঠিন পরিস্থিতিতেও জয় নিশ্চিত।

কর্মজীবন :
কেন্দ্রীয় মন্ত্রক থেকে পদত্যাগ হোক কিংবা কংগ্রেস ত্যাগ করা সমস্তটাই তার জীবনকে আরো উঁচু স্তরে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। ২০০৬ সালের সিঙ্গুর থেকে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম সমস্ত আন্দোলনেই মাননীয়া তার বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১১ সালে জয়লাভের পর তিনি কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, রুপশ্রীর মতো বহু পরিকল্পনার মাধ্যমে ছাত্র সমাজকে আরো এগিয়ে যাওয়ার সাহস যুগিয়েছেন। পরবর্তীকালে তার পরিচালিত কন্যাশ্রী বিদেশে এক সম্মানীয় পদে সম্মানিত হয়। এছাড়া ২০১৬ তে জয়লাভে পরেও তিনি গ্রামীণ এলাকার মানুষদের সুবিধার্থে বেশকিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

রাজ্যের উন্নয়নে তার ভূমিকা :
বৃষ্টির জলকে ধরে রাখার জন্য মাননীয়া ২০১১ সালে জল ধরো,জল ভরো পরিকল্পনার প্রচলন করেন। শিক্ষক শিক্ষিকাদের মাস পয়লা বেতন ও দ্রুত পেনশনের জন্য মমতা সিদ্ধান্ত নেন। ২০১২ সালে মহিলারা যাতে নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে থানায় অভিযোগ জানাতে পারে এবং তাদের নিরাপত্তা রক্ষিত হয় তার জন্য মমতার “মহিলা থানা” স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করেন। এছাড়া ২০১৩ সালে মাননীয়া প্রচলিত কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্য প্রতি বছরের ১৪ আগস্ট দিনটিকে কন্যাশ্রী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ২০১৪ সালে মিশন নির্মল বাংলা ও মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর এক উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা। ২০১৬ সালে রেশনের মাধ্যমে দরিদ্র সীমার নীচে বসবাসকারী মানুষজনকে দুটাকা কেজি দামে চাল ও গম প্রদানের ব্যবস্থা চালু করার জন্য “খাদ্যসাথী” প্রকল্প চালু করেন। এছাড়াও স্কুলছুট ছাত্রছাত্রীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নতির সুযোগ সৃষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য “উৎকর্ষ বাংলা” প্রকল্প চালু করেন। গত দশ বছরে বাংলার স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে নানা উন্নয়নমূলক কাজ করে নজির গড়েছেন মাননীয়া।

রেল মন্ত্রী হিসেবে কাজ :
১৯৯৯ সালে NDA জোটে যোগদান করার পর মমতা ব্যানার্জি সেই সালেই প্রথম রেল মন্ত্রী হিসেবে ঘোষিত হন। এরপর ২০০০ সালে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জি প্রথম রেল বাজেট ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয় তিনি প্রথম শিয়ালদহ-নিউ দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস চালু করেন। এছাড়া আরও অতিরিক্ত ১৯টি ট্রেন চালু করেছিলেন।

তবে এত কিছুর মাঝেও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে যখন সারদা কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অধিকাংশের নাম উঠে এসেছিল তিনি তখনও হার মানেননি। বরং তিনি সেই সময়েও নিজেকে সংযত রেখে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। মানুষও তার পাল্টা উত্তরে বিপুল সংখ্যক ভোট দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দ্বিতীয় বারের জন্য বাংলার সিংহাসনে বসান। সুতরাং বলা বাহুল্য সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য যিনি সকলের সাথে লড়াই করতে রাজি ছিলেন, তার জন্য সাধারণ মানুষের একটা অধিকার প্রয়োগের চেয়ে মূল্যবান কিছু হয়না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে