ভুয়ো ভ্যাকসিনেশনের জেরে টিকাকরণে নতুন নিয়ম চালু করল রাজ্য সরকার

0
88

দেবাঞ্জন দেব আয়োজিত শিবিরে যেসব লোকেরা ‘নকল’ ভ্যাকসিন পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী, কলকাতার সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ও অধ্যাপক এবং শহরের বাসিন্দারা। কলকাতা শহরে পৌর কর্পোরেশনের যুগ্ম কমিশনার হিসাবে ছদ্মবেশী টিকা শিবির পরিচালনা করা দেবাঞ্জন দেব এই শিবিরগুলিতে কমপক্ষে ১,৫০০ জনকে টিকা দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আরও দেখা গেছে যে ২৮ বছর বয়সী এই যুবকটি বহু বছর ধরে আইএএস অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

এই জাতীয় শিবিরে আমন্ত্রিত মিমি চক্রবর্তী জব্দ হওয়ার পরে কোনও পাঠ্য বার্তা বা টিকা দেওয়ার শংসাপত্র না পাওয়ার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দেবাঞ্জন দেব পরিচালিত টিকা কর্মসূচীর সত্যতা যাচাই করতে তিনি তার অফিসকে সতর্ক করেছিলেন।

তথ্য মতে, দেবাঞ্জন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে সফলভাবে কলকাতা পৌর কর্পোরেশন (কেএমসি) নামে একটি বর্তমান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের পরদিন কলকাতা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের জাল লেবেল এবং কিছু কেএমসির ব্যানার উদ্ধার করে। জয়েন্ট সিপি ক্রাইম মুরলিধর শর্মা বলেছিলেন “বেশ কয়েক বছর ধরে সে তার পরিবারের সাথে মিথ্যা বলেছিল। আমরা তার বক্তব্য যাচাই করছি।”

বর্তমানে এই ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিছু কড়া নিয়ম চালু করে। এবার থেকে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার অনুমতি নিয়েই হাসপাতাল স্বেচ্ছাসেবী এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি টিকাকরণ করতে পারবে। কী কী টিকা দেওয়া হচ্ছে, ব্যাচ নম্বর কত, সময়সীমা কত দিন তার বিষয়ে জানাতে হবে। এছাড়াও ফোন নম্বরসহ ওই শিবিরে সমস্ত তথ্য জমা দিতে হবে।

অপরদিকে, কসবায় ভুয়ো টিকাকরণ কাণ্ডের পর পৌরসভা প্রশাসক মন্ডলী অতীন ঘোষ জানান, টিকাকরণ করতে গেলে পৌরসভার অনুমতি লাগে এমন কোন কড়া নিয়ম জারি করা হয়নি। যদিও এই কথায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। সরকারের নাকের ডগায় কীভাবে হচ্ছে এমন ভুয়ো টিকাকরণ তা নিয়ে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

By Susmita Nandi

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে