Bangladesh: এখনো উত্তপ্ত বাংলাদেশ, কি কারন আসুন খুঁজে দেখি?

0
90

সারা বিশ্বে যখন শারদোৎসবে মেতে বাঙালি। সব জায়গায় খুশির জোয়ার এমন সময় বাংলাদেশে ঘটে গেল মর্মান্তিক কিছু ঘটনা। বাংলাদেশের কুমিল্লায় দূর্গাপূজো মন্ডপে পবিত্র কোরআন পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমস্ত ঘটনার সূত্রপাত। দূর্গা প্রতিমা ভাঙ্গা থেকে শুরু করে মন্দিরে ভাঙচুর, হিন্দুদের মারধোর বাংলাদেশে ঘটে চলা সমস্ত সাম্প্রদায়িক হামলার পেছনে ভাইরাল হওয়া কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। প্রায় ৬ জনের প্রাণ গেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এই ধর্মীয় নাশকতার দরুন।

দেশ জুড়ে এরম নানা হিংসাত্মক ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মোট ২২ টি জেলায় আধা অসামরিক বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানান তিনি।এর সঙ্গে একটি বিবৃতি দিয়ে জানান শেখ হাসিনা “কুমিল্লার ঘটনা পুঙ্খানুনপুঙ্খ তদন্ত করা হচ্ছে।কাউকে ছাড়া হবে না।কোন ধর্মের তা দেখা হবে না, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে”।

কুমিল্লার ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে একের পর এক সাম্প্রতায়িক হামলার ঘটনা সামনে আসতে থাকে। চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ, চট্টগ্রামের বাঁশখালি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, কক্সবাজারের পেকুয়াতেও বেশ কিছু মন্দির ও দূর্গা মণ্ডপে ভাঙচুর চালানো হয়। নোয়াখালির ইসকন মন্দিরেও হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা।রাজধানী ঢাকাতেও ইসলাম ধর্মের অপমানের অভিযোগ এনে রাস্তায় নামে বহু মানুষ। পুলিশ তাদের আটকানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাধে বিক্ষোভকারীদের। এএফপি সংবাদসংস্থার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৬ জন এছাড়াও জখম হয়েছেন প্রায় ১৫০ জনের বেশি হিন্দু বাঙালী। এছাড়াও জখম হয়েছেন সাংবাদিক সহ বেশ কিছু পুলিশ কর্মী। এছাড়া প্রায় ৮০ টি মন্দিরে হামলা চালানো হয়।

ঠিক কী হয়েছিল কুমিল্লায়,
কুমিল্লা নানুয়া দীঘির পারের একটি দূর্গা পূজো মণ্ডপে অষ্টমীর দিনে সকাল বেলা একটি কোরআন উদ্ধার করা হয়। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান জাতীয় জরুরি সেবা নম্বার ৯৯৯ তে ফোন করে কেউ পূজো মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার ঘটনাটি জানান। খবর পেয়েই পুলিশ গিয়ে কোরআনটি নিয়ে আসেন এর পরেই কোরআন উদ্ধারের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়া শুরু হয় সেই ভিডিওতে দেখা যায় কোরআনটি মা দূর্গা পায়ের কাছে রাখা, তারপরেই কোরআন অবমাননার নানা ভিডিও ভাইরাল হওয়া শুরু হয়। একজন স্থানীয় বাসিন্দার মতে পূজো মণ্ডপে রাতে কেউ থাকে না রাত ১২ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত সিকিউরিটি গার্ড থাকে মণ্ডপের বাইরে। রাতেই কেউ যড়যন্ত্র করে কোরআনটি মণ্ডপের গেটের সামনে হনুমান মূর্তির কোলে রাখা ছিল। মণ্ডপ খোলার পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম ঘটনাটি লক্ষ্য করে। তারপরে পুরোহিত এসে কোরআনটি সরিয়ে নিতে বলেন। পরে পুলিশ এসে কোরআনটি সরানোর পরেই বহুজন বাঁশ, লাঠি নিয়ে মণ্ডপে চড়াও হয়। মা দূর্গার মূর্তি, মণ্ডপ ভাঙচুর করা হয়। মারধর করা হয় স্থানীয় হিন্দুদেরও। এরপর থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন মণ্ডপ, মন্দির ভাঙচুর।

কুমিল্লার ঘটনায় মোট ৪৩ জনকে আটক করে পুলিশ, এছাড়াও মামলা রজু হয়েছে আরও কয়েকশো দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র ঢাকা থেকেই এখনো পর্যন্ত চার হাজার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। ঢাকার পল্টন, রমনা, চকবাজার এই তিন থানায় নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর, ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু জনকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

News By Tania

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে