Bhawanipore By-election: ভবানীপুর উপনির্বাচন: আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু যে দুই ওয়ার্ড – রাজনৈতিক পর্যালোচনা

0
114

30শে সেপ্টেম্বর হতে চলা ভবানীপুর উপনির্বাচন বহু দিক থেকেই অনন্য। তার মধ্যে একটি ব্যাপার হল এই নির্বাচনে প্রধান তিন দলের প্রতিদ্বন্দ্বীই আইনজীবী। আবার তার মধ্যে দুই দলের প্রার্থী হলেন মহিলা আইনজীবী। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভারতীয় জনতা পার্টির প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। এই উপনির্বাচন এই কারণেও তাৎপর্যপূর্ণ যে, এই নির্বাচনে হেরে গেলে মুখ্যমন্ত্রীত্ব হারাতে হবে তৃণমূল নেত্রীকে।উপনির্বাচনের গুরুত্ব অনুধাবন করে সর্বশক্তি দিয়ে প্রচারে নেমেছে যুযুধান সব রাজনৈতিক দলই। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভবানীপুর নির্বাচন কেন্দ্রের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্ব দিয়েছেন দলের বিভিন্ন নেতাকে।

উল্লেখ্য, ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচন কেন্দ্র গঠিত হয়েছে ৮টি ওয়ার্ড নিয়ে। 63, 70, 71, 72, 73, 74, 77 এবং 81। এই নির্বাচন কেন্দ্রে বিভিন্ন জাতি ধর্ম বর্ণের মানুষের বাস। একটু ভালো ভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই এলাকার প্রায় 42% মানুষ বাঙালী হিন্দু, 34% অবাঙালী হিন্দু এবং প্রায় 24% হলেন মুসলমান। তাই ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিভিন্ন ফ্যাক্টর কাজ করতে পারে ভোটবাক্সে, মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। এখন, বিগত কয়েকবারের ভোটের ট্রেন্ডকে যদি ওয়ার্ড অনুসারে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করলাম আমরা।

ওয়ার্ড নম্বর 63

এই ওয়ার্ডে বাঙালীদের তুলনায় অবাঙালী এবং মুসলমানদের উপস্থিতি অনেক বেশি। প্রায় 50% মানুষ এখানে অবাঙালী হিন্দু। 41% মুসলমান এবং বাঙালী মাত্র 8%। 2014 এবং 2019 এর লোকসভায় এই এলাকায় এগিয়ে ছিল বিজেপি। কিন্তু 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে লিড নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

ওয়ার্ড নম্বর 70

বিজেপির গড় বলে ধরা হয় এই ওয়ার্ডকে। এই এলাকার 61% মানুষই অবাঙালী, 35% মুসলমান এবং বাঙালী মাত্র 3%। যে কোনো নির্বাচনেই এই ওয়ার্ডে এগিয়ে থাকে বিজেপি।

ওয়ার্ড নম্বর 71

এই এলাকায় বাঙালী আর অবাঙালীদের উপস্থিতি প্রায় সমান সমান। এখানকার 55% মানুষ হলেন বাঙালী আর 41% হলেন অবাঙালী। মাত্র 3% মানুষ এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এই অঞ্চলের ভোটের ট্রেন্ড সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। কারণ, 2014 এবং 2016 এর নির্বাচনে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এগিয়ে ছিল এই ওয়ার্ডে। আবার 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোটে বিজয়ী হয় তৃণমূল। কাজেই এই ওয়ার্ডে চোখ রেখেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ওয়ার্ড নম্বর 72

এই ওয়ার্ডের প্রায় 56% মানুষ বাঙালী, 41% অবাঙালী আর প্রায় 3% মুসলমান। এই এলাকায় একটা ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়, এখানে বিধানসভা নির্বাচনে বরাবরই তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে এগিয়ে থাকে বিজেপি। এইবারের উপনির্বাচনের ফলাফলও এই ওয়ার্ডের ওপরে অনেকটা নির্ভর করবে বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

ওয়ার্ড নম্বর 73

এই এলাকার 65% মানুষই হলেন বাঙালী, আর 33% মানুষ অবাঙালী। মাত্র 2% মানুষ এই এলাকায় মুসলমান। এই ওয়ার্ডে বরাবরই বিজয়ী হয়ে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে লিড নেয় ভারতীয় জনতা পার্টি।

ওয়ার্ড নম্বর 82

এই অঞ্চল পুরোপুরিই বাঙালী প্রধান। এই এলাকার 77% বাঙালী আর মাত্র 21% হলেন অবাঙালী। 2014 এর পর থেকে প্রতিবারই এই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক ভোটে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। এইবারেও এই ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলেই মনে করা হচ্ছে।

ওয়ার্ড নম্বর 74

এখানে বসবাসকারী 49% মানুষই অবাঙালী। তুলনায় বাঙালীদের সংখ্যা প্রায় 36% এবং মুসপ্মাং ভোটার প্রায় 16%। এই ওয়ার্ড বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। 2014 এবং 2019 দুই লোকসভা নির্বাচনেই এখন থেকে বিজেপি প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।

ওয়ার্ড নম্বর 77

ভবানীপুরের একমাত্র ওয়ার্ড যেখানে অধিকাংশ মুসলমান মানুষের বাস। এই অঞ্চলের প্রায় 84% মানুষই মুসলমান। অপর পক্ষে বাঙালী 9% এবং অবাঙালী 7%। এই ওয়ার্ডে বরাবরই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাধান্য দেখা গেছে।লোকসভা হোক বা বিধানসভা, সব নির্বাচনেই বিপুল ভোটে লিড নিয়েছে তৃণমূল।

ওয়ার্ড ভিত্তিক পর্যালোচনায় একটা ব্যাপার সামনে বেরিয়ে আসে। ভবানীপুরের ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টি তেই ভোটের একটি নির্দিষ্ট ট্রেন্ড পাওয়া যায়। কিন্তু ওয়ার্ড নম্বর 63 এবং 72 এর সেই ভাবে কোনো পরিস্কার প্রবণতা নেই।তাই এই দুই ওয়ার্ডের ওপরে নজর রয়েছে সব রাজনৈতিক দলেরই। ভবানীপুরের উপনির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে এই দুই ওয়ার্ডের ওপরে, মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তাই এই ওয়ার্ড দুটিকে পাখির চোখ করে এগিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। যদিও এবার ভোটে “জয় বাংলা” স্লোগান তুলে যাত্রা শুরু করেছিল, তবুও এই দুই ওয়ার্ডের কথা মাথায় রেখেই অবাঙালী এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করেছে তৃণমূল।এই জন্যই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা মসজিদ এবং গুরুদ্বারে গিয়ে প্রার্থনা করতে, একথাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এই মহা-উপনির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে 3 অক্টোবর। তার আগে এই দুই ওয়ার্ড 63 এবং 72 যে আলোচনার কেন্দ্রেই থেকে যাবে, সে কথা বলাই যায়।

News By Gourab

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে