Cyclone: ঘূর্নাবর্তের জেরে দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির জন্য জারি নবান্নের ৮ দফা

0
82


ঘূর্নাবর্তের জেরে আজ ২৮ মঙ্গলবার ও ২৯ তারিখ বুধবার রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে বলে পূর্বাভাস। আর এই দুর্যোগে যাতে কোন রকম বিপদ না ঘটে তার জন্য নবান্ন থেকে কিছু সতর্কবার্তা জানানো হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিকে। এই দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর ৮ দফার নির্দেশ জারি করেছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুই মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ঘন্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় হাওয়ার গতিবেগ থাকতে পারে ঘন্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার। মুখ্যসচিব এইচ কে দ্বিবেদী দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য দক্ষিণবঙ্গের জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে কলকাতা পুরসভা সিইএসসি, রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টনকারী সংস্থার অধিকর্তারাও ছিলেন। সেখানেই বেশ কিছু নির্দেশ দেন তিনি। তারপর আবার সোমবার নবান্ন থেকে জেলাগুলিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার নবান্নে দুর্যোগ মোকাবিলায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিকে ৮ দফার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে –
১। প্রত্যেকটি জেলা, পুরসভা এবং ব্লক হেডকোয়ার্টার গুলিতে ২৪ ঘন্টা কন্ট্রোল রুম খোলা রাখতে হবে এবং সেখান থেকে নজরদারি চালাতে হবে।
২। কুইক রেসপন্স টীম প্রস্তুত রাখতে হবে। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে অন্য কোথাও রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। গাছ কাটার যন্ত্রপাতি সহ আরও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে তৈরি থাকতে হবে।
৩। আশ্রয় শিবির হিসেবে স্কুল-কলেজ, সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখতে হবে যাতে সেখানে বাসিন্দাদের সরিয়ে এনে সম্পূর্ন করোনা বিধি মেনে রাখা যায়। এছাড়া আশ্রয় শিবিরগুলিতে ওষুধ, চিড়ে, বেবি ফুড ও পানীয় জলের সম্পূর্ন ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৪। উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেদ করতে হবে। সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে পর্যটকদের যাওয়া নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
৫। বৃষ্টি আসার আগেই বিপদজনক জায়গা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে ফেলতে হবে। তার জন্য পরিবহনের সমস্ত ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে হবে।
৬। শহরগুলিতে পাম্প প্রস্তুত রাখতে হবে যাতে জল জমলে দ্রুত তা বের করা যায়।
৭। বিদ্যুতের খুঁটিগুলি যাতে সম্পূর্ন ঢাকা থাকে এবং কোথাও যেন কোন কাটা তার বা বিদ্যুৎ এর খুঁটি থেকে কোন বিপদ না হয় সেবিষয় নজর রাখতে হবে।
৮। অতিরিক্ত ছটি কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে যার তিনটি থাকবে কলকাতা পুরসভার জন্য।
কলকাতা পুরসভার ১০০ টি বিপজ্জনক বাড়ি ও প্রায় তিন হাজার অতি বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে বিভিন্ন স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টার ও স্কুলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে অতি বৃষ্টিতে বাড়ি ভেঙে দুর্ঘটনা হওয়ার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এছাড়া নবান্নেও ২৪ ঘন্টা কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। একাধিক কর্মীর ছুটিও বাতিল করা হয়েছে নবান্ন থেকে। সব ধরনের দুর্ঘটনাই যাতে এড়ানো যায় সেদিকে নজর রাখছে নবান্ন।

News By Tania

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে