Gujarat: মুন্ড্রা বন্দর থেকে বাজেয়াপ্ত প্রায় ৩,০০০কেজি হেরোইন থেকে দৃষ্টি সরাতে রেভ পার্টিতে রেইড?

0
146

এনসিবির ক্রুজে রেভ পার্টিতে রেইড করে মাদক উদ্ধার। শাহরুখ পুত্র আরিয়ানকে গ্রেফতার এবং আরো কিছু বড় বড় নামের এই ঘটনার সঙ্গে জড়ানো কোথাও হলেও একটা প্রশ্ন তুলে ধরছে। এই রেইড টা মুন্ড্রা বন্দর থেকে বাজেয়াপ্ত প্রায় ৩,০০০ কিলোগ্রাম হেরোইন এর ঘটনা থেকে মিডিয়া ও সবার দৃষ্টি সরানোর জন্য নয় তো ?

একবারে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ড্রাগস বাজেয়াপ্ত করা হয় ১৩ সেপ্টেম্বর গুজরাটের মুন্ড্রা বন্দর থেকে। ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স বা ডিআরআই (DRI) ২ টি কনটেইনার আটক করে। যেগুলি থেকে প্রায় ২৯৮৮.২১ কিলোগ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়। এত পরিমান হেরোইন এর বাজার মূল্য প্রায় ২১,০০০ কোটি টাকা। প্রতি কেজির দাম প্রায় ৫-৭ কোটি টাকা। এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত প্রায় ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিআরআই একটি বিশেষ সূত্র থেকে টিপ পায় আধা প্রক্রিয়াকৃত ট্যাল্ক পাথরের আমদানির। যেটি অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় অবস্থিত আশী ট্রেডিং কোম্পানি আফগানিস্তান থেকে ইরানের বান্দার আব্বাস বন্দর হয়ে গুজরাটের কুচ্ছ জেলার আদানি গ্রুপের মুন্ড্রা বন্দরে আনছে। আফগানিস্তানের নিমরূজ থেকে সেই ট্যাল্ক পাথর পাঠানো হলেও। সেখানে কোন ট্যাল্ক পাথর উৎপাদনই হয় না। একটি সংস্থা সূত্রে খবর ১৩ সেপ্টেম্বর কনটেইনার গুলি ডিআরআই বাজেয়াপ্ত করার পর গান্ধীনগরের ফরেনসিক সাইন্স ল্যাবরেটরির বিশেষজ্ঞদের সামনে কনটেইনারগুলি পরীক্ষা করা হয়। এবং বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন যে কনটেইনারগুলিতে সত্যিই হেরোইন রয়েছে। ১৭ এবং ১৯ তারিখ কনটেইনার ২ টি থেকে হেরোইন বের করা হয়। প্রথম কনটেইনার থেকে ১৯৯৯.৫৭ কিলোগ্রাম হেরোইন এবং দ্বিতীয় কনটেইনার থেকে ৯৮৮.৬৪ কিলোগ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়। জাম্বো ব্যাগ ভর্তি হেরোইন ছিল কনটেইনারের একদম নীচে। তারওপর ছিল ট্যাল্ক পাথর যাতে সব ধরনের সন্দেহ এড়ানো যায়।

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর থেকে প্রকাশ করা রিলিসে বলা হয় “এরপরেই দিল্লী, নয়ডা (উত্তর প্রদেশ), চেন্নাই কয়েম্বাটর, আহমেদাবাদ, মান্ডভি, গান্ধীধাম এবং বিজয়ওয়াড়া তে অপারেশন চালানো হয়। এই অপারেশনে দিল্লীর একটি গোডাউন থেকে ১৬.১ কিলোগ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়, নয়ডার একটি আবাসিক থেকে ১০.২ কিলোগ্রাম সম্ভবত কোকেইন পাউডার ও ১১ কিলোগ্রাম বস্তু যা গোয়েন্দাদের সন্দেহ হেরোইন বাজেয়াপ্ত করা হয়”। ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৪ জন আফগান নাগরিক, ১ জন উজবেকিস্তানের নাগরিক এবং ৩ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আশী ট্রেডিংএর মালিক এম শুধাকর ও তার স্ত্রী জি দূর্গা পূর্না বৈশালীকে চেন্নাই থেকে গ্রেফতার করে ডিআরআই। সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর নিউরেটিকস ড্রাগস এন্ড সাইকোট্রপিক সাবটেন্স বা এনডিপিএস (NDPS) অ্যাক্টে স্পেশাল আদালতে তোলা হলে তাদের ১০ দিনের ডিআরআই হেফাজতের নির্দেশ দেয় কোর্ট। তদন্তকারী সংস্থার সূত্র অন্ধ্রপ্রদেশের এই স্বামী স্ত্রীকে ‘নামের ঋণদাতা (name lenders)’ বলে সম্বোধন করে। তদন্তকারীদের ধারনা এই দম্পত্তি হয়ত কিছুই জানত না। আমদানি করা প্রতিটি কনটেইনার প্রতি তাদেরকে ৩০,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল এছাড়া কাস্টম ক্লিয়ারেন্স ও পরিবহনে সহায়তা করার জন্য দম্পতিকে ৩ লক্ষ্য টাকা দেওয়া হয়।

এছাড়া আদানি গ্রুপের আওতায় মুন্ড্রা বন্দর হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। এই ঘটনার পর আদানি গ্রুপের স্পোকস পারশন বিবৃতি দিয়ে বলেন এই ঘটনার ব্যপারে তাদের কোন ধারনাই নেই। বিশ্বের কোন বন্দর অপারেটরই কনটেইনার খুলে তার ভেতরে কী আছে দেখতে পারে না। তাই তাদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটা বন্ধ হোক। এই ঘটনার পর থেকেই বিজেপির বিরোধীতায় সরব হয়ে ওঠে বিরোধী পার্টিগুলি। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বিজেপিকে প্রশ্ন করেন “ আপনি কী বলতে পারেন গুজরাট কেন মাদক চোরাচালানের জন্য হটবেড হয়ে যাচ্ছে?” তিনি আরো বলেন “পিএম গুজরাটের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুজরাটের তবু মাদক চোরাচালানকারীরা এই পথটিকেই সবচেয়ে অনুকূল মনে করছে কেন?” খেরা প্রশ্ন করেন “এনসিবি কী ব্যক্তিগত প্রতিশোধের সংস্থায় পরিনত হয়েছে……”।

এরপরেই এনসিবির মুম্বাইএ রেভ পার্টিতে রেইড ও আরিয়ানকে গ্রেফতার আসল ঘটনা থেকে সবার দৃষ্টি সরানোর জন্য বলে মনে করছেন কংগ্রেস স্পোকস পারশন শামা মহামেদ। তিনি মুন্ড্রা বন্দরে এত পরিমানে ড্রাগ বাজেয়াপ্ত করার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর চুপ থাকার কারণ নিয়েও প্রশ্ন করেন। মহমেদ বলেন “গুজরাট মাদক চোরাচালানের কেন্দ্রস্থলে পরিনত হচ্ছে”। আতুল লোন্ধে কংগ্রেস স্পোকস পারশন “এনসিবির রেভ পার্টিতে রেইড কে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু এটাও লক্ষ করা যাচ্ছে গুজরাটের মুন্ড্রা বন্দর থেকে বাজেয়াপ্ত ২১,০০০ কোটি টাকার ড্রাগসের ব্যপারে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বা কোন আলোচনাও হচ্ছে না। এখানেই সন্দেহ থেকে যায় যে এই রেইডটা গত মাসের ঘটনা থেকে ফোকাস সরানোর জন্য নয় তো”। আফগানিস্তান থেকে এভাবেই যদি মাদক আসতে থাকে তো সেটা দেশের নতুন প্রজন্মদের জন্য বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে ও দেশে সন্ত্রাসও বৃদ্ধি পাবে।

News By Tania

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে