Jhargram: ঝাড়গ্ৰামে চিকিৎসার গাফলাতির অভিযোগে মৃত্যু হল তৃণমূল নেতার।

0
54

ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে সরকার সব কিছু দিয়েছে।কিন্তু তারপরেও একটা দুষ্টচক্রের হাতে পড়ে মরতে হল শাসক দলের এক নেতাকে।কারন এই দুষ্ট চক্রের মাথা ডাঃ প্রসূন ঘোষ,ডাঃ মৃণালকান্তি সাহা, এরা শাসক দলের অসীম ক্ষমতাশালী নেতা নির্মল মাঝির লোক। গত শুক্রবার 6নং জাতীয় সড়কে বাইক থেকে পড়ে গিয়ে পায়ের হাড় ভেঙে যায় ঝাড়গ্রাম গ্রামীণ এর ব্লক নেতা ধনপতি মাহাতোর। ধনপতির স্ত্রী ও ওই ব্লকের প্রাক্তন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ। শুক্রবারই ধনপতিকে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের এক্সরে খারাপ বলে 2দিন বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হয়। এরপরে এক্সরে হলেও হাসপাতালের অর্থোপেডিক ডাঃ মৃণালকান্তি সাহা রোগীর পরিবারকে জানাই পায়ের হাড়ের অপারেশন করতে হবে,কিন্তু হাসপাতালে সেটা সম্ভব নয়,এখানে প্রয়োজনীয় জিনিস নেই।তাই নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করতে হবে,খরচ হবে 35 হাজার টাকা। দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে টাকা জোগাড় করা দুঃসাধ্য ছিল বলে হাসপাতালে 7দিন বিনা চিকিৎসায় রোগীকে ফেলে রাখা হয়।এরপরে নিরুপায় হয়েই হাসপাতাল থেকে রোগীকে ছাড়িয়ে নিয়ে গিয়ে ভুয়ো অর্থোপেডিক সার্জন মানিক সিংকে 200 টাকা ভিসিট দিয়ে দেখায়, এই মানিক সিং উত্তরবঙ্গের চালনের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক। মানিক সিং রোগীর পরিবারের সাথে 35-40হাজার টাকার বিনিময়ে ডাঃ প্রসূন ঘোষের নার্সিং হোমের সাথে চুক্তি করে।গতকাল ধার দেনা করে 20হাজার টাকা জোগাড় করে নার্সিংহোমে ভর্তি হয়।আজ বিকেল 4 টার সময় অপারেশন এর জন্য ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত্রি 8টা নাগাদ বাড়ির লোককে নার্সিংহোম কতৃপক্ষ ফোন করে গাড়ি নিয়ে আসতে বলে।বাড়ির লোক কিছু বুঝে ওঠার আগেই তড়িঘড়ি একটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে ডেথ সার্টিফিকেট সহ মৃতদেহ বাড়ির উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেয়। এর পরেই সমস্ত আত্মীয় পরিজন ও গ্রামের লোক ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে। সবাই জড়ো হয়ে তাদের বিধায়ক ডাঃ খগেন্দ্রনাথ মাহাতো কে সব বিষয় টি জানান। বিধায়ক উত্তেজিত মানুষের ক্রোধ প্রশমন করতে পুরো বিষয় টি নিজের হাতে নেন।উনি ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে পৌঁছে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেন।রাত 2টোর পরে বিধায়ক বাড়ি ফিরে যাবার পরে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঝাড়গ্রাম থানায় ডাঃ মানিক সিং ও ডাঃ প্রসূন ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।এই দুষ্ট চক্র, প্রসূন ঘোষের এই নার্সিংহোম ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ঝাড়গ্রামে ভুরি ভুরি অভিযোগ আছে। একসময় স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের লক্ষ লক্ষ টাকা জালিয়াতি করার অভিযোগে সরকার নার্সিংহোম টিকে কালো তালিকাভুক্ত করে দিয়েছিল। রোগীর পরিবার যেন নার্সিংহোমে পৌঁছতে না পারে তার জন্য বহিরাগত দুষ্কৃতীদের জড়ো করে রেখেছিল এমনটাও অভিযোগ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে