Lakhimpur: নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত রাহুল প্রিয়াঙ্কার, স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের সুপ্রিম কোর্টের, চাপে বিজেপি সরকার

0
37

প্রায় পঞ্চাশ ঘন্টা বন্দী থাকার পরে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা অবশেষে বুধবার সন্ধ্যেবেলা জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে থাকা লখিমপুরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। সেখানে তিনি রবিবারের হিংসায় নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

উল্লেখ্য, ঠিক তিন দিন আগে এই লখিমপুরেই কৃষি বিলের বিরুদ্ধে এক প্রদর্শন চলাকালীন মিছিলের মধ্যে একটি গাড়ি ঢুকে পড়ে। যার চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন চার জন কৃষকের। অভিযোগ ওঠে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী অজয় কুমার মিশ্রের পুত্র আশিস মিশ্র। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামগ্রিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা হিংসাত্মক আকার নেয়। যার জেরে প্রাণ হারান আরো চার জন, যার মধ্যে দুজন হলেন বিজেপি কর্মী, একজন সাংবাদিক।

ঘটনায় নিহত কৃষক লভপ্রীতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পালিয়ায় চৌখাদাতে পৌঁছন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। তারপর লখিমপুরের খেরি জেলার তিকুনিয়া গ্রামেও যান তাঁরা। সেখানে নিহত প্রেমপ্রীতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান তাঁরা। প্রায় 30 মিনিট সেখানে থাকেন তাঁরা। সব রকমের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। সেই সময়ে উপস্থিত ছিলেন কয়েক হাজার গ্রামবাসী। প্রিয়াঙ্কা বলেন কংগ্রেস সব সময়ে কৃষকদের পাশে আছে।

প্রসঙ্গত, নরেন্দ্র মোদী সরকারের কৃষি বিল নিয়ে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই দেশ জুড়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন কৃষিজীবীদের একটা বড় অংশ। কারণ বিল কার্যকর হলে তাঁদের ধারণা আখেরে তাঁদের ক্ষতিই হবে। রাজধানী দিল্লীতে বেশ কিছুদিন ধরেই অবস্থান করছেন কয়েকজন কৃষক। এবার প্রজাতন্ত্র দিবসে তাঁরা আলাদা করে প্যারেডও করেছিলেন। ফলত দেশ জোড়া এই প্রতিবাদ অবশ্যই কেন্দ্রীয় সরকারের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি সরকার বলপ্রয়োগ করে এই আন্দোলন ভেঙ্গে দিতে চাইছেন। বস্তুত, গত শনিবারই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অজয় কুমার মিশ্র লখিমপুরের আন্দোলনরত কৃষকদের হুমকি দিয়েছিলেন, যে তাঁদের সেখান থেকে মেরে তাড়াবেন। তার ঠিক পরের দিনই এই ঘটনা।

লখিমপুরের এই অমানবিক ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও সামনে এসেছে যার পরে আরো জোরালো হয়েছে বিরোধীদের দাবি। ইতিমধ্যেই অজয় কুমার মিশ্রের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন বিরোধীরা। কিন্তু সেকথায় কর্ণপাত করেননি অজয়। অপরদিকে ঘটনার মূল অভিযুক্ত আশিস মিশ্রের গ্রেফতারির দাবিতেও সরব হয়েছেন বিরোধী তথা এলাকার স্থানীয় মানুষ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আশিস মিশ্রকে ছুঁতেও পারেনি পুলিশ। পরস্থিতি সামাল দিতে গোটা এলাকায় 144 ধারা লাগু করেছে উত্তর প্রদেশের যোগী সরকার।

এর মধ্যেই সরকারের অস্বস্তি আরো বাড়িয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আজ দেশের শীর্ষ আদালত সুয়োমোটো মামলা জারি করেছে লখিমপুর ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়।

সব মিলিয়ে একথা পরিস্কার যে, দেশজোড়া এই কৃষক আন্দোলন, রাজনৈতিক বিরোধিতার পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের লখিমপুরের এই ঘটনায় দৃশ্যতই বেশ চাপে, বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশ এবং আরো বেশি করে কেন্দ্রীয় সরকার। এখন এই ঘটনার প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হবে সেই দিকেই তাকিয়ে আছে গোটা দেশের মানুষ।

News By Gourab

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে