Murder UP:‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’ কোটি টাকার সম্পত্তি হাতানোর ফন্দিতে ২০ বছর ধরে এক এক করে পরিবারের ৫ সদস্যকে হত্যা।

0
59



পৈত্রিক সম্পত্তি হাতানোর উদ্দেশ্যে বাড়ির ৫ জন সদস্যকে খুন করে লিলু ত্যাগী। দাদা এবং দাদার সন্তানদের নিয়ে প্রায় মোট ৫ জনকে খুন করে লীলু। প্রথম খুন করেছিল ২০ বছর আগে নিজের দাদার। গাজিয়াবাদ মুরাদ নগর থেকে পুলিশ লীলু ত্যাগীকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করে। ৪৮ বছরের লীলুর সঙ্গে তার আরও দুজন সঙ্গী হপুর জেলার সুরেন্দ্র ত্যাগী যে উত্তর প্রদেশ পুলিশের একজন অবসরপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর ও তার ড্রাইভার সম্বল জেলার রাহুলকে গ্রেফতার করে।

ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে প্রথম যখন ব্রিজেশ ত্যাগী লীলুর দাদা যে ছিল লীলুর পরবর্তী টার্গেট নিজের ছেলে রেশুর মিসিং রিপোর্ট ১৫ আগস্ট দায়ের করে। তার এক সপ্তাহ পর ব্রিজেশ থানায় এসে জানায় তার এক নিকট আত্মীয় রেশুকে অপহরন করেছে সম্পত্তির লোভে। এই অভিযোগের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে ও প্রায় মাস খানেক পর লীলুকে গ্রেফতার করে।

ইরাজ রাজা ( এসপি রুরাল ) বলেন প্রথম হত্যাটি হয়েছিল ২০০১ সালে লীলুর দাদা সুধীর ত্যাগীর। সেই সময় মুরাদ নগরের ১৬ বিঘা জমি ত্যাগীদের তিন ভাই সুধীর, ব্রিজেশ ও লীলুর নামে ছিল। ওই জমিটির দাম প্রায় ৫ কোটি টাকা। এই জমির যাতে কোন ভাগ না হয় তার জন্যই একের পর এক খুন করে ও করিয়ে গেছে লীলু। ২৮ বছরে লীলু দাদা সুধীর (৩০) কে মারার জন্য ১ লক্ষ টাকার কন্ট্রাক্ট হিটম্যান সুভাষকে দেয়। গুলি করে হত্যা করে সুধীরের দেহ কালি নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনাটি ঢাকতে লীলু বাড়িতে জানায় তাদের দাদা স্ব-ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। পরে লীলু দাদার বউ অনিতাকে বিয়ে করে ও অনিতা ও সুধীরের দুটি মেয়ে পায়েল ও পারুলকে আপন করে নেয়। ২০০৩ এর শেষের দিকে অনিতা ও লীলুর ছেলে হয় স্যাঙ্কি।

২০০৬ সালে লীলু অনিতার বাপের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ নিয়ে পায়েলের খাবারে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে আট বছরের বাচ্চাটিকে হত্যা করে। এবং পরিবারকে জানায় বিষাক্ত পোকার কামড়ে পায়েলের মৃত্যু হয়েছে। একই ভাবে পায়েলকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে গঙ্গায় ফেলে দেয় দেহ। লীলু পরিবারকে জানায় পায়েল একটি ছেলের সাথে পালিয়ে গেছে। পরিবারের বদনাম হবে এই বলে কোন পুলিশ রিপোর্ট করার থেকে আটকে নেয় পরিবারের লোককে।

এরপরে লীলুর নজর পরে ব্রিজেশের পরিবারের ওপর। ২০১৩ তে ব্রিজেশের বড়ো ছেলে ১৬ বছরের নিশুকে দম বন্ধ করে খুন করে ওর দেহ হিন্দো নদীতে ফেলে দেয়। নিশুকে ড্রাগ অ্যাডিক্ট দেখিয়ে বলে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে আবারও বদনামের ভয় দেখিয়ে পুলিশ কেস করা থেকে আটকে দেয় নীলু। ৩ মাস আগে ২৪ বছরের রেশুকে খুন করার পরিকল্পনা করে নীলু হিটম্যান বিক্রান্তকে ৫ লক্ষ টাকার সুপারি দেয়।

৩ আগস্ট নীলু রেশুকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় বুলন্দশহর যাওয়ার পথে গাড়িতে রেশুর গলায় দড়ি দিয়ে দম আটকে তাকে মেরে ফেলে এবং দেহ বুলন্দশহরের কাছে খালে ফেলে দেয়। রেশুর দেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নীলু শিকার করে ব্রিজেশ ও তার স্ত্রীকে গাড়ি অ্যাক্সিডেন্টে মারার পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন তিনি। একটি অপহরণের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ৫ টি খুনের হদিশ পেয়ে হতভম্ব পুলিশ। কোর্টে তলার সময়ও লীলুর মুখে বিন্দুমাত্র আফসোস লক্ষ্য করা যায় নি। ঘটনার কথা জেনে স্তম্ভিত ব্রিজেশও। লীলুর আরও দুই সঙ্গী বিক্রান্ত ও মুকেশ পলাতক।

News by Tania

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে