Nandigram: ১০ নভেম্বর নন্দীগ্রাম দিবসে ফিরে দেখা নন্দীগ্রামের সেই ইতিহাস

0
21

১০ নভেম্বর আজ নন্দীগ্রাম দিবস। প্রতিবছরের মতো এবছরও নন্দীগ্রাম দিবস নিয়ে তৃণমূলের প্রস্তুতি তুঙ্গে। নন্দীগ্রাম অন্দোলনের সময়ে থাকা মমতার ছায়া সঙ্গী আজ বিজেপির হয়ে ভোট জিতে এখন প্রধান বিরোধী দল নেতা। এতকাল যেই শুভেন্দু অধিকারীকে সামনে রেখে হতো তৃণমূলের নন্দীগ্রাম দিবস পালন আজ সেখানেই আলাদা আলাদা করে হচ্ছে নন্দীগ্রাম দিবস পালন। সকালে তৃণমূলের স্মরন সভার পর সেখানেই বিকেলে হবে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির স্মরনসভা। প্রায় ১৫ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের একটি ছোট অখ্যাত গ্রাম নন্দীগ্রামই বাংলার রাজনীতির আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছিল।

ঠিক কী ঘটেছিল নন্দীগ্রামে
নন্দীগ্রামে ইন্দোনেশিয়ার সালেম গোষ্ঠীর কেমিক্যাল হাব তৈরি করার প্রস্তাবনা দিয়েছিল তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্ট সরকার। কিন্তু বহুফসলি জমিতে কেমিক্যাল হাব তৈরি করলে ক্ষতি হবে চল্লিশ হাজারেরও বেশি মানুষের। তাই সকল গ্রামবাসী একসাথে মিলে ভূমি উচ্ছেদ প্রতরোধ কমিটি নামক একটি সংগঠনের সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত হয়। ২০০৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর জারি করা হয় কেমিক্যাল হাবের জন্য জমি অধিগ্রহনের নোটিস। যা বাতিলের দাবীতেই অন্দোলনে রত হয় ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি।

২ জানুয়ারি তৃণমূল সমর্থিত জমি রক্ষা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সিপিএম ক্যাডারদের প্রথম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয় যাতে প্রাণ হারায় মোট ৬ জন। এই ঘটনার পরও অন্দোলনরত গ্রামবাসীরা পিছু হাঁটে নি। গ্রামবাসীরা রাস্তা কেটে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। তখন তৎকালীন সিপিএম সরকারের নির্দেশে অন্দোলন তুলতে ১৪ মার্চ বিশাল পুলিশ বাহিনী নন্দীগ্রামের দিকে এগিয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে বাঁধা দিলে তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। প্রাণ হারায় ১৪ জন, আহত হয় বহু গ্রামবাসীও। সেদিন পুলিশের পোশাকে পুলিশের সাথে সিপিএম ক্যাডাররাও ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় নন্দীগ্রামে প্রচুর মহিলাও ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। এখানেই শেষ নয় নভেম্বর মাসেও চলে নানা হিংসাত্মক ঘটনা। এই অমানবিক হিংসার ঘটনা কাঁপিয়ে দিয়েছিল প্রায় গোটা বিশ্বকে। পিছু হাঁটতে বাধ্য হয়েছিল সিপিএম সরকার। তারপরেই শুরু হয় সিপিএম-এর বাংলায় পতন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অর্থাৎ তৃণমূলের উত্থান।

তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ১০ নভেম্বর দিনটি ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি নন্দীগ্রামে “রক্তাক্ত সূর্যোদয়”-এ শহিদদের কুর্নিশ জানায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে শহিদদের স্মরনে এদিন লিখেছেন “ নন্দীগ্রামের শহিদদের আমরা ভুলছি না ভুলব না। নন্দীগ্রাম-সহ সারা পৃথিবীর সকল শহিদদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।“ নন্দীগ্রাম দিবসে তৃণমূলের তরফ থেকে প্রতিবছর শুভেন্দু অধিকারীকে সামনে রেখে শহিদদের সম্মান জানানো হত কিন্তু এই বছর দৃশ্যটা সম্পূর্ণ আলাদা।

News By Tania

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে