“ভাগ্যিস, জাত গোখরো নয়, না হলে এক ছোবলেই ছবি’ হয়ে যেতেন”, সলমন খানকে খোলা চিঠি এনকে সলিলের

0
68

মিঠুন চক্রবর্তীর ছবি মানেই এনকে সলিলের‌ রংচঙে ডায়ালগ, যা ফাটাকেষ্টর মুখ ফুটে বেড়িয়ে হল কাঁপানো সিটির জোগাড় করত। আজকাল বাংলা মশলা ছবির বাজার খারাপ। তবুও পুরোনো ছবির সংলাপ‌ ফিরে ফিরে আসে।

Advertisement

২৪ ডিসেম্বর রাতে সালমান খানকে সাপে কেটেছিল। আর এবার সেই প্রসঙ্গে কলম ধরলেন, এনকে সলিল। লিখলেন, “অভিমন্যু’ ছবির সংলাপ ছিল ‘এক ছোবলে ছবি’। আমার লেখা একটি সংলাপ। মিঠুনদা (মিঠুন চক্রবর্তী) অভিনয় করেছিলেন তাতে। অনেকের মুখে আজও বলতে শুনি। সম্প্রতি মিঠুনদাও বিজেপির মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই সংলাপ বলেছিলেন। তাই নিয়ে কত কাণ্ড! তবে সত্যি বলতে কী, মন ভাল হয়ে যায়।

এই সংলাপ যে এখনও এত মানুষ মনে রেখেছেন, ভেবে ভালই লাগে। এটুকুই তো পাওয়া। আমার মতো একজন চিত্রনাট্যকারের বা সংলাপ রচয়িতার ক্ষেত্রে অনেক বড় ব্যাপার। কিন্তু আজ হঠাৎ এই সংলাপের কথা মাথায় এল কেন? তার কারণ আপনি সলমন খান। জন্মদিনের আগেই আপনি সাপের ছোবল খেয়েছেন। তাই সকাল থেকেই সংলাপটা মাথার মধ্যে ঘুর ঘুর করছে। কী কাণ্ড বাঁধালেন বলুন তো! ভাগ্যিস, জাত গোখরো নয়। বালিভোরা কিংবা জলঢোঁড়াই হবে। না হলে ‘এক ছোবলেই ছবি’ হতে পারতেন।”

সলমনের উদ্দেশ্যে তার খোলা চিঠি, “সলমন আপনি পর্দার হিরো। আসলে সুপারডুপার হিট হিরো। আপনার বিলাসের কোনও অন্ত নেই। পানভেল ফার্ম হাউজ়ও আপনার অপেক্ষায় থাকে। অপেক্ষায় থাকে আপনার ফার্মের পশুপাখিরা। সাপখোপও পোষেন। আসলে সংলাপ লিখতে পারি। কিন্তু ভয় পাই আমি। বিশেষ করে সাপকে।

আপনার কাছে একটাই অনুরোধ – সাপের বিচরণ ক্ষেত্রে ঘুরে বেড়াবেন না। আপনার ভাগ্য ভাল, আপনি ছবি হয়ে যাননি। সাপটা নিরীহ ছিল। তার উপর আপনারই ফার্ম হাউজ়ের সাপ। সাপটারও হয়তো আপনার প্রতি মায়া হয়েছিল। আমার মনে হয় সব জায়গায় বীরত্ব না দেখানোই ভাল। পর্দায় বীরত্ব ও বাস্তব জীবনে বীরত্ব দেখানোর ক্ষেত্রে পার্থক্য আছে। বি-শা-আ-আ-আ-আ-আ-ল পার্থক্য। সেখানে জীবজন্তুদের সঙ্গে পাঙ্গা না নেওয়াই ভাল।”

তাঁর সংযোজন, “আমি শুনেছি, সাপটাকে আপনি ধরতেও গিয়েছিলেন। কী সাহস আপনার! তারপর শুনলাম, সাপটাও আপনার ছোঁয়ায় ঘাবড়ে গিয়েছিল। হতেই পারে। সলমনের আদর বলে কথা! ঘাবড়ানোর ফলেই আপনাকে কামড়েছে বলে আমার বিশ্বাস। একবার নয়। দু’বার নয়। তিনবার কামড়েছে। নিরীহ সাপের নিরীহ স্পর্ধা।

না হলে তিনটে ছোবল খাওয়ার পর আর থাকতেন কি আপনি? এক ছোবলেই ছবি হতেন! আমার সংলাপও সত্যি হত। আপনার জন্মদিনেই। এই কষ্ট নিয়ে আমি কোথায় যেতাম তখন? আপনি তো জানেন, মিঠুনদাই তো আপনাকে কতবার বলেছেন, আমি আপনার কত বড় ভক্ত। ‘বীর’ ছবিটা করার সময় আপনি তো আমার সংলাপও ব্যবহার করেছেন। মনে পড়ে আপনার। সেই আপনি যদি সাপের কামড়ে ছবি হতেন, আমি সহ্য করতে পারতাম না।

আজ আপনার জন্মদিন। ঈশ্বরের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। জন্মদিনের আগে আরও বড় কোনও অঘটন ঘটেনি আপনার। সেটা আমাদের মতো আপনার ভক্তদের জন্য খুশির খবর। চিরকালই তো ভক্ত হিসেবেই রয়ে গিয়েছি আপনার।”

Advertisement

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে