Siliguri: বাংলা ত্রিপুরা হবে না কোনো দিন।শিলিগুড়ি জনসভা থেকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

0
22

শিলিগুড়ি ; বাংলা ত্রিপুরা হবে না কোনো দিন।বাংলার সংস্কৃতি আগলে রাখবো।বাংলা ত্রিপুরা নয়। তারা আবার মানবিকতার কথা বলে। বিজেপি হুক্কা হুয়া করে ঘুরছে। ত্রিপুরায় একটা মিটিং মিছিল করতে দেয় না।বাংলাটা ত্রিপুরা হয়ে যায়নি এখনও। আমরা হতে দেব না। সংস্কৃতি ধরে রাখব।সাম্প্রতিক ত্রিপুরায় তৃনমুলকে কোনঠাসা করতে বিজেপির একের পর হামলার শিকার হওয়ায় উত্তরবঙ্গে পাঁচ দিনের সফরের প্রথম দিন শিলিগুড়িতে বিজয়া সম্মেলনীতে যোগ দিয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই প্রথম ত্রিপুরার সুস্মিতা দেবদের হামলা নিয়ে মুখ খুলে বিজেপি কে পালটা বাংলার সংষ্কৃতির কথা মনে করিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃনমুল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জী।পাশাপাশি মোদী সকরারের ১০০ কোটি টিকাকরনের ঢাক ঢোল পেটানো নিয়েও খোঁচা দিতে ভোলেন নি বলেন টিকার সবটাই জুমলা। রাজ্যে ১৪ কোটি টিকার প্রয়োজন।যদিও টিকা মিলেছে মাত্র ৭ কোটি। ২৯কোটি ৫১লক্ষ হয়েছে বাকি ঢোল পেটানো হচ্ছে। হ য ব র ল ওরা টিকাতে দেখায় ৩ নং বেঙ্গল , আসলে আমরা ছাগলের ৩ নং বাচ্চা বলে কটাক্ষ করে বলেন বাংলা বঞ্চিত। এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে টিকা নিয়ে খোচা দেওয়া ছাড়াও বিএসএফের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কেন্দ্রকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন ৫০ কিমি ঘুরে বেড়াতে পারবে। দাঙ্গাকে উস্কানি দেওয়ার জন্য এই সব হচ্ছে। আমাদের দরকার নেই। আসলে সীমান্তে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা ।সবটাই দখলে নেওয়ার চেষ্টা। শুধু দাও আর দাও। আরে আমাদের সাথে পড়শি দেশের সম্পর্ক মধুর তাই আমাদের এসব দরকার নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন

পুজোর উদ্বোধনের পর থেকেই বৃষ্টিতে ঠান্ডা লেগে শরীর ভালো নেই। ঠান্ডা লেগেছে। যদিও গলা খারাপ নিয়েই পাঁচদিনের উত্তরবঙ্গ সফরে রবিববার শিলিগুড়িতে এসে পৌঁছোলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ সফরের প্রথমদিনই যোগ দেন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের তরফে আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভবানীপুরের ভোটের আগের দিন রাত্রে নচিকেতা ও ইন্দ্রনীলের জোর করাতে সব দেব দেবীর মন্ত্রের দু এক লাইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর রেকর্ড করা গান বাজানো হয়।এরপরের ভাষনমঞ্চের দিকে এগিয়ে যান।বলেন আমার ঠাণ্ডা লেগেছে। তবে, বিগত ২০ বছরে জ্বর হয়নি, কাজ করেই কেটে গিয়েছে।’তার বক্তব্যে করোনা সংক্রমণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি করেন, বাংলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও সংক্রমণ মোকাবিলায় সকলকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। করোনার টিকা নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কোভ্যাক্সিনের প্রসংগ টেনে এনে বলেন হু কোভ্যাক্সিনকে স্বীকৃতি দেয় নি, তবে মোদী আমেরিকা গেল কি করে। আমি অনেক আগেই হু কে দিয়ে সংখ্যাত করার জন্য চিঠি দিয়েছি।

এদিনের বিজয়া সম্মীলনীর অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় নিজেকে জীবন্ত লাশের সঙ্গে তুলনা করে মুখ্য়মন্ত্রী বলেন তিনিই একমাত্র স্বাধীনতাত্তোর একজন জীবিত আন্দোলনকারী যার দেহে এমন কোন জায়গা বাদ নেই যেখানে তাকে বিরোধীরা আঘাত করেনি। উত্তরপ্রদেশে লোকে ঢুকতে পারে না। দিল্লিতে লোডশেডিং হচ্ছে। বাংলায় শ্মশানের শান্তি নয়, মৈত্রীর শান্তি আছি।

এর পাশাপাশি নিত্যনৈমিত্যিক পেট্রোল-ডিজেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কারও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই।মনে হচ্ছে মুখে লিউকোপ্লাস্টার লাগিয়ে বসে আছে সবাই।’

অপরদিকে সম্প্রতি বিজেপির সাংসদের তরফে উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য করার দাবি জানানো হয়েছিল।রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবার পর এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে এসে উত্তরবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে সে উওর জানাতে ভোলেন নি মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃনমুল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী।তিনি সভায় বক্তব্য শেষ করার আগে বলেন উত্তরবঙ্গে বিভাজনের শাসন নয়। এক থাকতে চাই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে