SSC: কেন বারবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ? ইন্টারভিউতে অনুপস্থিত একাধিক প্রার্থী

0
275
SSC: কেন বারবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ? ইন্টারভিউতে অনুপস্থিত একাধিক প্রার্থী

Priyanka Pal, DNI: স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা যেনো কাটতেই চাইছে না। দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। কমিশন সূত্রে খবর, ইন্টারভিউ প্রক্রিয়াতে ১৫৪৩৬ জনকে ডাকা হয়েছিল। তার মধ্যে ইন্টারভিউ নেওয়ার সংখ্যাটা ১৩ হাজারেও পৌঁছাতে পারেনি।

দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আইনি জটিলতায় বন্ধ রয়েছে উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া। এবার তার জেরেই উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষকের চাকরি নিতে চাইছে না একাধিক চাকরিপ্রার্থী। কমিশন সূত্রে খবর, ১৯০০ জন চাকরিপ্রার্থী ইন্টারভিউতে অনুপস্থিত থেকেছে। কমিশনের আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, এদের মধ্যে বেশিরভাগই কেউ অধ্যাপক, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ স্তরে শিক্ষকের চাকরি পেয়ে গিয়েছেন। আবার কেউ কেউ ডব্লিউবিসিএস এর চাকরি পেয়ে চলে গিয়েছেন। তার জন্যই এত সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী অনুপস্থিত ছিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

কমিশন সূত্রে খবর, ইন্টারভিউ টেবিলে চাকরিপ্রার্থীরা প্রয়োজনীয় তথ্য না দিতে পারার দরুণ ৬০০ জন চাকরিপ্রার্থীর ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়া হয়। আবার অনেকেই প্রয়োজনীয় নথি যে আপলোড করেছিলেন তার সঙ্গে কমিশনের কাছে পাওয়া তথ্যের অনেক গরমিল ছিল। তার জন্যই এত সংখ্যক প্রার্থী ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে বলেই কমিশন সূত্রে খবর।

এরইমধ্যে আবার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যকে ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার একটি মামলার শুনানিতে আদালত প্রশ্ন তুলেছে, রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে কেন বার বার অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠছে? চাকরি প্রার্থীদেরই বা কেন বার বার আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে?

২০১৬ সালে শিক্ষক নিয়োগে এসএসসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০১৯ সালের এসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়। এর পর চলতি বছরে জানা যায়, ওয়েটিং লিস্টের ২৫৩ নম্বর র‌্যাঙ্কের প্রার্থী সুযোগ পেয়েছেন। অথচ ২১৪ নম্বর প্রার্থী সুযোগ পাননি। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তারপরই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা রুজু করা হয়। সোমবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।

কমিশনের কাছে বিচারপতি জানতে চান, কেন বার বার এ ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে? স্বচ্ছতার সঙ্গে কেন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে না? এই পরিপ্রেক্ষিতে এসএসসি-র কাছে হলফনামা তলব করেছে আদালত। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ওই হলফনামা আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, বারবার একই অভিযোগে ক্ষুব্ধ বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তীব্র ভর্তসনা করেছেন কমিশনকে। এদিকে পরীক্ষায় পাশ করেননি অথচ চাকরি পেয়েছেন বহু প্রার্থী। অন্যদিকে যোগ্য হয়েও বেকার তাঁরা এই অভিযোগে আজ একদল চাকরি প্রার্থী সেন্টার পার্কে অনশনে বসতে চেয়েছিলেন। মহামারী আইনে পুলিশ তাঁদের অনশনে বসার অনুমতি না দিলে চলে ধস্তাধস্তিও।

Advertisement

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে