Tokio Olympics 2021 ; যৌথভাবে প্রথম স্থান, অনন্য এক বন্ধুত্বের নজির গড়লো তাম্বেরি ও বারশিম

0
24

Ritika Roy, DNI: বন্ধুত্ব আসলে কী? এমন এক বন্ধন, যা চিরকালীন অটুট। বন্ধুত্ব মানে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি। হাত ধরাধরি করে হাঁটা দুই বন্ধুর। টোকিও অলিম্পিকে এমনই এক আশ্চর্য বন্ধুত্বের ছবি উঠে আসলো আমাদের সামনে। কাতারের মুতাজ় বারশিম আর ইতালির গিয়ানমার্কো তাম্বেরির কথাই জানা যেত না, যদি না হাইজাম্প ইভেন্টটাতে নামতেন।

ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে প্রায় গত চার বছর ধরে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তাম্বেরি আর বারশিমের। কতটা গভীর সে সম্পর্ক, সেটা জানা ছিল না। দু’জনেই সোনার জন্য লড়ছিলেন। দুজনেই ২. ৩৭ মিটার লাফিয়ে সমান ছিল!২. ৩৭ মিটার আর টপকাতে পারছিলেন না। দুটো লাফের পর হঠাত্‍ই পায়ে চোট পান বন্ধু তাম্বেরি। এতটাই যে, আর নামতেই পারছিলেন না শেষ লাফে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষ না থাকায় সোনা জিতে যেতে পারত বারশিম। অন্য কেউ হলে হয়তো সে এই পথই বেছে নিতেন। বারশিম অভিনব পথ বেছে নিলেন।

কিন্তু বারশিম ওই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলেন “যদি আমি চূড়ান্ত প্রচেষ্টা থেকে সরে আসি তাহলে আমাদের দুজনের মধ্যে সোনা ভাগ করা যাবে?” অফিসিয়াল যাচাই করে এবং নিশ্চিত করে এবং বলে “হ্যাঁ তাহলে সোনা তোমাদের দুজনের মধ্যে ভাগ করা হবে”। বারশিম রাজি হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে। শেষ প্রচেষ্টা থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। যে বন্ধুর সঙ্গে তাঁর এত গভীর সম্পর্ক, তাঁর সঙ্গে সোনা ভাগ করে নিতে অসুবিধা নেই। তিনি নিজেও চেয়েছিলেন, হঠাত্‍ চোট পাওয়া বন্ধুর মনে যেন চোট না লাগে। অলিম্পিক সোনাই থাকুক দু’জনের কাছে।

এটা দেখে ইতালীয় প্রতিপক্ষ তাম্বেরি দৌড়ে গিয়ে বারশিমকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে উঠল! আমরা যা দেখেছি সেখানে খেলাধুলায় ভালোবাসার একটি বড় অংশ ছিল যা আমাদের হৃদয়কে স্পর্শ করে। এটি অবর্ণনীয় ক্রীড়াবিদকে প্রকাশ করে যা ধর্ম, রঙ এবং সীমানাকে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলে। ম্যাচের শেষে বারশিম বলেন, “আমি জানি আমি যে পারফরম্যান্স এখানে করেছি তার জন্য আমি সোনা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তাম্বেরি একই কাজ করেছিল। তাই আমি এও জানি ও সোনা পাওয়ার। এই বার্তা আমরা তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিলাম।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে