লক্ষ্য ২০২৩ য়ের বিধানসভা, ত্রিপুরায় একগুচ্ছ দাবি নিয়ে রাজভবন অভিযান তৃণমূলের

0
16

নতুন বছরের শুরু থেকেই বিধানসভা ভোটে ভালো ফলের লক্ষ্যে ত্রিপুরায় ঝাঁপাতে চলেছে তৃণমূল। আজ ত্রিপুরা রাজভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেস। আইন শৃঙ্খলা থেকে কর্ম সংস্থান সহ একাধিক ইস্যুতেই ত্রিপুরায় আন্দোলন শুরু করছে জোড়া ফুল শিবির।

Advertisement

পনেরো দফা দাবীকে সামনে রেখে সকাল ১১ টার সময় বিবেকানন্দ ময়দানের সামনে জমায়েত করার ডাক দেওয়া হয়েছে। যে যে ইস্যুতে তারা রাজভবন অভিযান করবে তা হল—
•রাজ্যের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি •প্রতিনিয়ত মহিলা নির্যাতন •ধর্ষণ •খুন, •ব্যাপকহারে বাড়িঘর দোকানপাট ভাঙচুর •লুটপাট •বিরোধীদলের কর্মী নেতাদের উপর আক্রমন •কাৰ্য্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া •সংবাদপত্রের অফিস পুড়িয়ে দেওয়া •সাংবাদিক নিগ্রহ এবং •সাধারণ জনগণের উপর প্রতিনিয়ত আক্রমন ও হেনস্থা তথা বাইক বাহিনীর দৌরাত্মের প্রতিবাদে এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বলে জানিয়েছেন ত্রিপুরা তৃণমূলের স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক সুবল ভৌমিক।

সুবলবাবু আর‌ও জানিয়েছেন, “এই রাজ্যে শিল্প কারখানা নেই, রোজগারের সুযোগ নেই, রাজ্যবাসী সরকারি চাকুরির উপর নির্ভরশীল তাই অবিলম্বে সমস্ত সরকারি শূন্যপদ পূরণ করতে হবে। বিগত চার বছর নিয়োগ প্রায় বন্ধ, বেসরকারি সংস্থাকে কর্মী নিয়োগের বরাত দিয়ে রাজ্যের বেকারদের ভাতে মেরে বাইরের রাজ্যের প্রার্থীদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ অফিসকে বিকলাঙ্গ করে বাইরের রাজ্যের বেসরকারী সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চয়ই স্বচ্ছতার স্বাক্ষর বহন করে না।”

সরকারের কাছে তার দাবি, অবিলম্বে রাজ্যের বেকারদের জন্য সরকারী চাকুরি বা অন্যভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা অথবা তাদের বেকার ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে এবং রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতিদের বঞ্চনা করে বাইরের রাজ্যের অধিবাসীদের সুযোগ করে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। এই দাবীতে আজকের এই রাজভবন অভিযান।

এছাড়াও,
•প্রাক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০৩২৩ জন চাকুরীচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মানপূর্বক চাকুরী ফিরিয়ে দিতে হবে বা বিকল্প সরকারী চাকুরী দিতে হবে এবং প্রয়াত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পরিবারে একটি করে সরকারী চাকুরী দিতে হবে।
•রাজ্য বিদ্যুত দফতরের তুঘলকি রাজ বন্ধ করতে হবে এবং বেসরকারীকরণ রোধ করতে হবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে অধিক মাশুল চাপিয়ে অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে ও বিদ্যুত মাশুল ৫০% কমিয়ে আনতে হবে।
• ধর্মনগর থেকে আগরতলা জাতীয় সড়কের কাজ অবিলম্বে সম্পূর্ণ করতে হবে এবং নিম্নমানের কাজের জন্য দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
•রাজ্যের পরবর্তী প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতে শিক্ষার বেসরকারীকরণ বন্ধ করতে হবে।

শিক্ষাক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য ও দুর্নীতি রোধের জন্য শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করছে তৃণমূল। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে সরকার। বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বেসরকারী হাসপাতালে রোগী রেফার করে অনৈতিক কাজ চলছে বলে অভিযোগ। এরকমই একাধিক দাবি নিয়ে আজ রাজভবন অভিযান করবে তৃণমূল কংগ্রেস।

Advertisement

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে